ঢাকা-৫ উপনির্বাচন

সালাহউদ্দিনের প্রচারে হামলা ১৫ জন আহত

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপিপ্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদের পথসভায় গতকাল বুধবার দুপুরে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম, সুমন নাথ সরকার, আদনান, প্রান্ত, আসিফ,  নজরুল, আলামিন সরকার মন্টিসহ ১৫ জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় পাঠানো হয়।

সালাহউদ্দিনের নির্বাচনী প্রচারে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই হামলা নিঃসন্দেহে সুপরিকল্পিত। সন্ত্রাস সৃষ্টি করে সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যাঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করে সরকারদলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করারই নীলনকশা। এই হামলা সরকারি আধিপত্য বিস্তারেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।’

নির্বাচনী পথসভা ও র‌্যালিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ভোটের দিন কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে নিয়ে ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর সব সড়ক অবরোধ করা হবে। এখান থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।’

বিএনপিপ্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন দেশ রূপান্তরকে অভিযোগ করে বলেন, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে সমাবেশের শেষ পর্যায়ে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় শহীদ ফারুক সড়ক থেকে ২০-২৫ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এসে হামলা চালায়। পরে একটি নির্বাচনী মিছিল নিয়ে শহীদ ফারুক সড়কের দিকে গেলে সেখানে অবস্থিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

হামলার ঘটনায় গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন, প্রশাসন, আইন-আদালতসহ সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই বর্তমান অবৈধ সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ ধরনের হামলা সংঘটিত করছে। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোকে উপেক্ষা করে জনগণকে প্রান্তিক পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে বর্তমান সরকার। ক্ষমতাসীনদের মদদে সমাজের সর্বত্র চলছে বেআইনি সন্ত্রাসীদের আধিপত্য।’

এ ব্যাপারে বিএনপিপ্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে আপনারা প্রমাণ করেছেন শহীদ জিয়ার অনুসারীরা মরে যায়নি। ১৭ অক্টোবর কেন্দ্রে কেন্দ্রে আমি নিজে থাকব। কোনো উসকানিমূলক কর্মকান্ড হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আমাদের কোনো পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে আমরা জনগণকে নিয়ে ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর সব রাস্তা অবরোধ করব। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করব।’

পথসভায় খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকে এমন একটি সময় আমরা এই নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছি যখন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দুটি মহামারী বয়ে চলছে। একটি হলো আওয়ামী দুর্যোগ আরেকটি হলো করোনা দুর্যোগ। আওয়ামী দুর্যোগ এ জন্য বলছি, আজকে যারা সরকারে আছেন আপনারা জানেন, এ এলাকার মানুষ জানেন, সারা বাংলাদেশের মানুষ জানেন ৩০ ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে সে নির্বাচন নস্যাৎ করা হয়েছে।

পথসভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন নান্টু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সুমন ভুঁইয়া, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভান্ডারী প্রমুখ।