হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

মেডিকেল রিপোর্ট না থাকলে ধর্ষণ অপ্রমাণিত হবে না

ধর্ষণ মামলায় ভুক্তভোগীর জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিকে সাজা দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন না থাকার কারণে প্রসিকিউশন পক্ষের মামলা অপ্রমাণিত হবে না মর্মে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। এক ধর্ষণ মামলায় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইবরাহীম গাজীর দণ্ড বহাল রেখে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেয় বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। গতকাল বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌস রূপা। তিনি জানান, খুলনায় ২০০৬ সালের ১৫ এপ্রিল ধর্ষণের শিকার হয় নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। কিন্তু মামলা করতে গেলেও থানা মামলা নেয়নি। মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গেলেও সঙ্গে পুলিশ না থাকায় মেডিকেল টেস্ট হয়নি। এরপর খুলনার নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করলে এ ঘটনায় বিচারের পথ খোলে। দীর্ঘদিন পর গত বছরের ১৩ মার্চ খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে আসামি ইবরাহীমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বিচারিক আদালতেও শুধু মেডিকেল প্রতিবেদন না থাকার কারণে আসামি খালাস পেতে পারে না মর্মে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বরাতে তিনি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট না থাকা ভুক্তভোগীর অবহেলা নয়। বরং তিনি এর জন্য চেষ্টা করেছিলেন। মেডিকেল প্রতিবেদন না থাকার কারণে এখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি, এটা বলা যায় না। ঘটনার পারিপাশির্^ক অবস্থা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি এসব কিছু বিবেচনা করে আসামিকে খালাস দেওয়া যাবে না বলে রায় দেয় হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, মেডিকেল কলেজ কর্র্তৃপক্ষ ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণ হিসেবে ভিকটিমের সঙ্গে পুলিশ না থাকার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি পিটিশন মামলা। ডাক্তারি পরীক্ষার সময় পুলিশ সঙ্গে থাকবে ট্রাইব্যুনাল এ মর্মে কোনো আদেশও প্রদান করেনি। আদালত বলে, শুধুমাত্র ডাক্তারি পরীক্ষা না করার কারণে প্রসিকিউশন পক্ষের মামলা অপ্রমাণিত হবে না। ভিকটিমের মৌখিক সাক্ষ্য ও অন্যান্য পারিপার্শি¦ক সাক্ষ্য দ্বারা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ভিত্তিতেই তাকে সাজা প্রদান করা যেতে পারে। কাজেই শুধুমাত্র ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়ার কারণে ধর্ষণ প্রমাণিত হয়নি বা আপিলকারী (আসামি ইবরাহীম) ধর্ষণ করেনি এই অজুহাতে সে খালাস পেতে পারে না।