ওয়ান-ইলেভেনের সময় দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলায় সাবেক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনের সাজা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) জন্য হলফনামার আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এই দুজনকে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে জানান দুদকের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান।
দুজনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর নাছির উদ্দিনকে ১৩ বছর ও ছেলে মীর হেলালকে তিন বছর সাজা দিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে গত বছরের ১৯ নভেম্বর সাজা বহাল রেখে রায় দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে পৌঁছার পর তিন মাসের মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয় রায়ে। অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত জানুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর গত ১৩ আগস্ট বিচারিক আদালত রায়ের নথি পায়। হাইকোর্টের রায়ে আত্মসমর্পণের নির্দেশনা ছিল। যেহেতু তারা দন্ডপ্রাপ্ত তাই তাদের আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গিয়ে তবেই লিভ টু আপিল করতে হবে।’
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ মীর নাছির ও তার ছেলে মীর হেলালের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করে দুদক। দুজনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ১১ হাজার টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপন ও ২৯ কোটি ২৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয় অভিযোগপত্রে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৪ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মীর নাছিরকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছর ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে আরও তিন বছরের কারাদ- এবং বাবাকে দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে ছেলে মীর হেলালকে তিন বছরের কারাদন্ড দেয়।