যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে (আইপিএস) বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার ওয়াশিংটনের অনুরোধের বিরোধিতা করেছে দেশের কয়েকটি বাম ধারার রাজনৈতিক দল। দলগুলো মনে করছে, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে বাংলাদেশের যোগদান হবে সংবিধানবিরোধী ও সরকারের ঘোষিত নীতির বিরোধিতা। গতকাল শুক্রবার পৃথক বিবৃতিতে দলগুলো তাদের এ অবস্থানের কথা জানায়।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমরা এই অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিগান গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আপত্তি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো।
ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন ভূমিকা বাংলাদেশের মূলনীতির অংশ এবং সংবিধান অনুসারেই বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির নামে এ অঞ্চলে যে সামরিক জোট গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে যোগ দিতে পারে না। যোগ দেওয়াটা সরকারের ঘোষিত নীতির বিরোধিতাও হবে।
বিগানের সফর নিয়ে দলটির ভাষ্য, এটা স্পষ্ট যে আইপিএসের জন্য সমর্থন আদায় করতেই তার এই সফর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন। পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে আরও বলা হয় ‘ওবামা প্রশাসনের সময়কালেই যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা এবং তাতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সংশ্লিষ্ট করার নীতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো সামরিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার অবকাশ নেই। আমাদের সংবিধানে বলা আছে, জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার কথা। তাই মার্কিন মন্ত্রীর এ ধরনের প্রস্তাব ঔদ্ধত্যের শামিল। যুক্তরাষ্ট্র চীনবিরোধী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সামরিক জোট হিসেবেই ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি জোট গড়ার পাঁয়তারা করছে।’
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের আইপিএস জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী সামরিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার অবকাশ নেই। এ ধরনের জোটে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বিপজ্জনক।