খাগড়াছড়ির দুর্গম লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সীমানা লাগোয়া। এ উপজেলায় যেতে হয় মানিকছড়ি উপজেলা হয়ে। মানিকছড়ি থেকে লক্ষ্মীছড়ির দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। উপজেলার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ এই ১৪ কিলোমিটারে সড়কে পাঁচটি সেতু ও একটি কালভার্ট নির্মাণাধীন। চার বছর আগে কাজ শুরু করলেও সড়ক বিভাগ এখনো তা শেষ করতে পারেনি। যার ফলে চলাচলে যন্ত্রণা পোহাচ্ছেন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় চার বছর আগে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ এই সেতুগুলোর কাজ শুরু করলেও এখনো শেষ হয়নি। অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রয়েছে সেতুগুলোর কাজ।
তারা আরও জানান, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাবাসীর জেলা শহরে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক পথ মানিকছড়ি-লক্ষ্মীছড়ি ১৪ কিলোমিটার সড়ক। এই সড়কের লেমুয়া, মগাইছড়ি, নতুন পাড়া, হাতিছড়া, জুর্গাছড়ি ও ধুরুং এলাকায় পাঁচটি সেতু ও একটি কালভার্টের কাজ ৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় প্রায় চার বছর আগে শুরু করে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ। এখনো একটি সেতুর কাজও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। শুধু তাই নয়, বর্তমানে এই সেতুগুলোর কাজ পুরোপুরি বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষ্মীছড়ি উপজেলাবাসী ও এই সড়কের পাশের গ্রামগুলোর লোকজন। তাদের চলতে হচ্ছে বিকল্পভাবে তৈরি করা লক্ষর যক্ষর বেইলি ব্রিজ দিয়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুগুলোর কাজ শেষ না হওয়ায় জরুরি রোগীকে জেলা শহরে আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া পণ্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বিরাট অসুবিধায় পড়তে হয়। অনেকে সেতুগুলোর কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কাজের সময় সড়ক বিভাগ কোনো তদারকি করে না এবং কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয় না বলে জানান এক জনপ্রতিনিধি। এলাকাবাসীর দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সেতুগুলোর কাজ যেন দ্রুত শেষ করা হয়।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী জানান, তিনি এই সেতুগুলোর কথা খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিং এ অনেকবার উত্থাপন করেও কোনো সদুত্তর পাননি। কী কারণে এখন সেতুগুলোর কাজ বন্ধ তাও তিনি জানেন না।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, পাহাড়ি ঢল কয়েকটি সেতুর স্পেন, স্টেজিং ও সাটারিং ভাসিয়ে নেওয়ায় এবং শক্ত মাটির কারণে সেতুর কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া অনাকাক্সিক্ষখিত চাঁদাবাজির কারণে কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হলেও ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এপ্রোচ সড়কসহ সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।