প্রভিশন সংরক্ষণে সময় পেল আইসিবি

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ধারণকৃত শেয়ারের পুনর্মূল্যায়নজনিত অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে রক্ষিতব্য প্রভিশন সংরক্ষণের ঐচ্ছিক সুবিধার সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইসিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বুধবার এসইসির ৭৪৪তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা  গেছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে আইসিবির আবেদন বিবেচনা করে কমিশন প্রভিশনের সময় ২০২১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদনে সায় দিয়েছে।

আইসিবির ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটে ক্রয়মূল্যে ১২ হাজার ৬২৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ ছিল, যার বাজারমূল্য ছিল ১১ হাজার ৬০৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। এতে করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির সে সময়ে অনাদায়ী ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অনাদায়ী ক্ষতির ওই পরিমাণের অর্থ প্রভিশন হিসেবে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাত্র ১৪১ কোটি টাকা প্রভিশন হিসেবে রাখে আইসিবি।

২০১৮-১৯ হিসাব বছরে আইসিবির সমন্বিত আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী এ সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয় ২১০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৭০ শতাংশ কম। কর পরিশোধের পর আইসিবির নিট মুনাফা দাঁড়ায় ২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩৭৭ কোটি টাকা। হিসাব মান অনুসারে আইসিবি যদি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখে তাহলে কোম্পানিটিকে লোকসানে পড়তে হতো। এমন পরিস্থিতিতে আইসিবি তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ধারণকৃত শেয়ারের পুনর্মূল্যায়নজনিত অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে রক্ষিতব্য প্রভিশন সংরক্ষণের ঐচ্ছিক সুবিধা বাড়াতে এসইসিতে আবেদন করে। এর ফলে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় প্রদানে সম্মতি দিয়েছে কমিশন।