যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর কিছুদিন পরেই। দেশটির বিগত সব নির্বাচনের তুলনায় এবার আগাম ভোট পড়েছে সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি বিশ লাখের বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। গতকালও টেক্সাসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আমেরিকানদের ভোট দিতে দেখা গেছে।
এই আগাম ভোট দেওয়ার ঘটনা ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়ের জন্যই একদিকে স্বস্তির ও অন্যদিকে দুশ্চিন্তার। কারণ, এবার বিপুল পরিমাণ আগাম ভোট মানেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগের তুলনায় এবার জনসচেতনতা বেশি। আর সচেতন জনগণ এবার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ফ্যাক্টরকে সামনে আনবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে কথা বলতেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার মিশিগান ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল শনিবার এ দুই অঙ্গরাজ্যে সমাবেশের পর রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে পশ্চিমা অঙ্গরাজ্যগুলোতে সফর শুরু করবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র আড়াই সপ্তাহ বাকি। সদ্যই নিজেকে করোনামুক্ত দাবি করা ট্রাম্প জোরোশোরে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। চার বছর আগে যে অঙ্গরাজ্যগুলোতে জয় পেয়েছিলেন, সেগুলোতে জয়ের ধারা বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া তার হাতে এখন বিকল্প কোনো পথও খোলা নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে যেমন হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে গিয়েছিল যা তার হেরে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এবারও যদি কিছু বের হয় বাইডেনের বিরুদ্ধে তাহলে সেই সুবিধা পাবেন ট্রাম্প। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।
২০১৬ সালের নির্বাচনে মিশিগান ও উইসকনসিনে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ বছরের নির্বাচনকে সামনে রেখে চালানো জনমত জরিপে দেখা গেছে এ দুই অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন তিনি। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফলকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছেন তার উপদেষ্টারা। তবে আরিজোনাসহ ঐতিহাসিকভাবে শক্ত রিপাবলিকান ঘাঁটি বলে বিবেচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন ট্রাম্প। গতকাল প্রেসিডেন্ট মিশিগান ও উইসকনসিনে সমাবেশ করেন। আজ রবিবার নেভাদা ও সোমবার আরিজোনায় সমাবেশ করার কথা রয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ইলেক্টোরাল পদ্ধতিতে। সারা দেশে কে কত পপুলার ভোট পেলেন, তার ভিত্তিতে নয় বরং কে কত ইলেক্টোরাল ভোট পেলেন তার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। উইসকনসিনে ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ১০টি, মিশিগানে ১৬টি এবং আরিজোনায় ১১টি। নেভাদায় রয়েছে ৬টি ইলেক্টোরাল ভোট। ফলে এই কয়টি রাজ্য ট্রাম্পের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।