২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রঙ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে নায়ক হিসেবে বাপ্পী চৌধুরীর আবির্ভাব। দিনে দিনে নিজেকে ঢালিউডের অন্যতম আস্থাভাজন নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। এখন বেশ বেছে বেছে কাজ করছেন এই নায়ক। সম্প্রতি তিনি যে নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করছেন তাদের প্রত্যেকেই স্বনামধন্য। সবাই তার অভিনয়ে উন্নতির কথা বলেছেন। তিনি এখন একটি চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। অন্যদিকে ঢালিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশুশিল্পী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। শিশুকাল থেকেই বিখ্যাত অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে পেয়েছেন চারবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। দীঘি এখন পূর্ণাঙ্গ নায়িকা হয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। তার হাতে এরই মধ্যে পাঁচটি সিনেমা। তবে এবারই প্রথম বাপ্পী চৌধুরীর সঙ্গে ঢালিউডের নতুন জুটি হয়ে আসতে যাচ্ছেন তিনি। এসকে ফিল্মস ইন্টারন্যাশনালের ব্যানারে নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তারা। ‘তুমি আছো তুমি নেই’ নামের সিনেমাটি পরিচালনা করবেন গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। পরিচালক জানিয়েছেন, ‘আগামী নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে শ্যুটিং শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা টানা শ্যুটিং করব। এক লটেই সিনেমার ক্যামেরা বন্ধ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শ্যুটিং শুরু হবে ঢাকার বাইরে। তবে লোকেশন এখনো ঠিক করা হয়নি। নতুন বছরের শুরুতেই ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমরা চাই এই সিনেমার মাধ্যমেই নায়িকা হয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হবে দীঘির।’
নায়ক-নায়িকা হিসেবে বাপ্পী ও দীঘিকে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কম বয়সী তরুণ-তরুণীর গল্প। এতে শাকিব, মৌসুমী, পপি বা অপু বিশ্বাসকে মানাবে না। আর শাকিব খানের পরেই তো বাপ্পীর অবস্থান। সে ইদানীং আগের চেয়ে আরও ভালো করছে। আমার চরিত্রের জন্য সে সবচেয়ে পারফেক্ট। আরেফিন শুভ আমার সিনেমার জন্য পারফেক্ট নয়। তাকে রোমান্টিক সিনেমায় একদম মানাবে না। তাকে দিয়ে অ্যাকশন সিনেমা হতে পারে। কিন্তু বাপ্পীকে দিয়ে সব ধরনের সিনেমা সম্ভব। দীঘির সঙ্গে তাকেই সবচেয়ে ভালো মানাবে। এ সময়ের অন্য নায়িকাদের সঙ্গে আমি কাজ করিনি। কিন্তু তাদের নামে এত নেতিবাচক মন্তব্য শুনেছি যে ভয় পেয়েছি কাজ করতে। দীঘিকে অভিনেত্রী ও নায়িকা দুভাবেই আমার মনে ধরেছে।’
বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘আমি এখন ৫৭০ নামের নতুন একটি সিনেমার কাজ করছি। টানা শ্যুটিং করে ২২ অক্টোবর সিনেমাটি শেষ করব। এরপর আরও একটি নতুন সিনেমার কাজ শুরু করব। তবে ওই সিনেমা নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। এরপর নভেম্বরের মাঝামাঝিতে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর সিনেমাটি শুরু করব। লুক টেস্টের জন্য এরই মধ্যে দীঘির সঙ্গে আমি একটি ফটোশ্যুট করেছি। ছবি যারা দেখেছে সবাই বলেছে একটি ভালো ও সম্ভাবনাময় জুটি আসতে চলেছে। সবাই মন দিয়ে কাজটি করলে দারুণ একটি সিনেমা হবে। এই সিনেমার গল্প ট্র্যাডিশনাল সিনেমার মতো। সালমান শাহ, শাবনূর, মৌসুমীর যে ধরনের সিনেমা দেখতে মানুষ হলে ভিড় করত, তেমনি গল্প, তবে আধুনিক সময়ের ওপর ভিত্তি করে গল্পটি এগিয়ে যাবে।’
দীঘি বলেন, ‘নায়িকা জীবনের শুরুতেই দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর মতো গুণী নির্মাতাদের ভরসার জায়গা দখল করাটা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। আমি একই সঙ্গে আনন্দিত ও গর্বিত। চেষ্টা করব মন দিয়ে কাজ করে তাদের আস্থার জায়গাটি ধরে রাখতে। আর বাপ্পী চৌধুরী সম্পর্কে বলব, তিনি আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তার সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছুই শিখতে পারব। তিনি এ সময়ে ঢালিউডের অন্যতম সুদর্শন ও মেধাবী নায়ক। আমাদের জুটি সবাই পছন্দ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সিনেমায় নিজেকে ভাঙার অনেক সুযোগ পাব। অভিনয়ের জায়গা রয়েছে প্রচুর। আমার অন্য সিনেমাগুলো থেকে এর গল্প একেবারেই আলাদা।’