পাবনায় আ.লীগ নেতার হাতে লাঞ্ছিত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা

পাবনার বেড়ায় পৌর মেয়র কর্র্তৃক ইউএনও লাঞ্ছিতের রেশ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে অফিসে ঢুকে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট মুশফিকুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা পরিষদ ভবনের নিচতলায় হিসাবরক্ষণ অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় জিডি করেছেন ওই কর্মকর্তা।

মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘জেলা ফিনান্স ও অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে সব সরকারি কর্মকর্তার বেতন ও উন্নয়ন কাজের বিলের অর্থ প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি ছাড়া তা প্রদান সম্ভব নয়। সম্প্রতি শহরের কৃষ্ণপুর এলাকার নাইস কনস্ট্রাকশনের মালিক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন তার একটি ঠিকাদারি কাজের জামানতের ৫টি চালান হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি ডুপ্লিকেট চালান তৈরি করে বিল দাখিল করেন। বিষয়টি আইনসম্মত না হওয়ায় হারিয়ে যাওয়া জামানতের চালানের অনুকূলে থানায় জিডিসহ বিল দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার ম্যানেজারকে নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসে এসে আমাকে গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হন। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে এসে তাকে থামাতে গেলে তিনি আমাকে হত্যার হুমকি দেন।’

মুশফিকুর আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমিসহ অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।’

পাবনা সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে হিসাবরক্ষণ অফিসের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা ঠিকাদার ফারুক হোসেন বলেন, ‘হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অহেতুক ঘুরানোয় কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। লাঞ্ছিতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ এ ঘটনায় পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’ অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ফারুকের সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিতের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। আগেও তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করেছেন।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত করেন পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন।