বিএমএ ও স্বাচিপের যৌথ সভা

স্বাস্থ্য খাতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা পদায়ন বন্ধের দাবি

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চিকিৎসকদের বিশেষায়িত পদসমূহে প্রশাসন ক্যাডার ও অন্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পদায়নের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)। এ ধরনের পদায়ন অনতিবিলম্বে বন্ধ করা এবং যাদের আগে পদায়ন করা হয়েছে তাদের অতিদ্রুত প্রত্যাহার করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর বিএমএ ভবনের সভাকক্ষে এ বিষয়ে বিএমএ ও স্বাচিপ নেতাদের সঙ্গে দেশের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক নেতাদের মতবিনিময় সভা হয়। এদিন বিএমএর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিকিৎসক ও চিকিৎসা পেশার মর্যাদা রক্ষায় যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা রোধে চিকিৎসক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে সভা থেকে হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

এর আগে গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের বড় পদগুলোতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের রাখা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসক কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক নেতারা। সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে চিকিৎসক নেতারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে তারা আন্দোলনে নামবেন।

রবিবারের সেই অনুষ্ঠানের পর গতকাল ওই বিষয়ে বৈঠকে বসেন চিকিৎসক নেতারা। সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণে জরুরি ভিত্তিতে দেশের প্রত্যেক জেলা বিএমএ ও স্বাচিপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যৌথ সভার মাধ্যমে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়। এছাড়া সব ক্যাডারে পার্শ্ব প্রবেশ রোধ ও কৃত্যপেশাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার লক্ষ্যে অন্যান্য পেশাজীবীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তী কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হকের সঞ্চালনায় গতকালের মতবিনিময় সভায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সালান ও মহাসচিব ডা. এমএ আজিজ, বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. মো. সোহরাব আলী ও ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, বিএমএর সাবেক মহাসচিব ডা. মো. শফিকুর রহমান ও ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, বিসিপিএসের সাবেক সভাপতি ডা. মো. সানোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. শাহ মনির হোসেন ও ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক, আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু ও বর্তমান সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনের চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।