অতীতের সব নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। আওয়ামী লীগের এই ফ্যাসিস্ট সরকার, যাদের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, জনবিচ্ছিন্ন, তাদের অধীনে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সরকারকে স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আর টালবাহানা করবেন না, পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠান করুন। এটাই একমাত্র সমাধান।’
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি একযোগে সারা দেশের সব মহানগর ও জেলায় হয়েছে। আজ মঙ্গলবার হবে উপজেলা ও থানায়। মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দেশে যে ইসি আছে, এটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ। এদের লজ্জা-শরম বলতে কিছু নেই। ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোটও পড়েনি। আমরা মনে করি ৫ পারসেন্ট ভোটও পড়েনি। অথচ তারা বলছে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন যেমনই হোক অবলীলায় ইসি বলে যায়, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’
‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কথাটা তো তিনি মিথ্যা বলেননি। এ নির্বাচন তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকেই। তারা নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় এসে সুপরিকল্পিতভাবে জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করেছেন। জনগণ যাতে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে না পারে সে ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। রাষ্ট্রযন্ত্র, পুলিশ, র্যাব, বিডিআরকে এমনকি আমাদের দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা কখনো বিতর্কিত হতে দিতে চাই না, তাদেরও আপনারা মাঝেমধ্যে ব্যবহার করতে চেয়েছেন।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মাহতাব হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি ইউনুস মৃধা ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম নকি প্রমুখ।