সোমবার মধ্যরাত থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে নৌযান শ্রমিকেরা খাদ্যভাতা প্রদান ও মেরিন শিপিং ডিজির নানা হয়রানি বন্ধ সহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে।
এই কর্মবিরতির কারণে এ দিন মধ্যরাত থেকেই বাঘাবাড়ি বন্দরে প্রায় শতাধিক পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ বন্দও ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর থেকে এ বন্দরে কোন জাহাজ কোথাও ছেড়ে যায়নি ও কোন জাহাজ আসেনি। এ ছাড়া এ দিন কোন জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বা লোড-আনলোড হয়নি। দিনভর নৌযান শ্রমিকেরা জাহাজে বসে অলস সময় পাড় করেছে। ফলে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্মহীন হয়ে পড়েছে। হাতে কাজ না থাকায় বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের প্রায় ৪০০ পণ্য খালাসের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া এ দিন বাঘাবাড়ি নৌবন্দর থেকে শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রাসায়নিক সার ও জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে গেছে। ফলে অনেক স্থানে সরবরাহ কমের অজুহাতে বিক্রেতারা লিটার ও কেজি প্রতি ২/১ টাকা করে বেশি দরে সার ও জ্বালানি তেল বিক্রি করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাউদুল ইসলাম মাস্টার ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, বেতন বৃদ্ধি,খাদ্যভাতা প্রদান, বাল্কহেড সহ সকল নৌযানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন ১১ দফা চুক্তি নৌযান মালিকদের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী সকল নৌযান বন্ধ রেখে লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের লেবার এজেন্ট আবুল সরকার বলেন,বাঘবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি বাফার গুদাম ইনচার্জ সোলায়মান হোসেন বলেন, বাঘাবাড়ি বাফার গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। তাই জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও আপাতত সার সরবরাহর কোন সমস্যা হয়নি। তবে ৮/১০দিন বন্ধ থাকলে সমস্যা হতে পারে। এ বিষয়ে যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজার একেএম জাহিদ সরোয়ার জানান,আপাতত জ্বালানি তেলের কোন সমস্যা নেই। তবে এ কর্মবিরতি দীর্ঘ স্থায়ী হলে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।