১৭১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন হারে রোগী শনাক্ত

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত অব্যাহত থাকলেও শনাক্তের শতকরা হার অনেকটা কমেছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় আরও ১ হাজার ৩৮০ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন প্রতি ১০০ পরীক্ষায় ১০ দশমিক ১৪ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের এই হার গত ১৭১ দিন বা সাড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনি¤œ। এর আগে সর্বশেষ গত ২ মে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। তার পর থেকে গতকালেরটাই সর্বনি¤œ শনাক্তের হার।  এ নিয়ে গত চার দিন ধরে টানা ১১ শতাংশের কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৮ রোগী মৃত্যুবরণ করেছে। অধিদপ্তরের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মৃতদের মধ্যে ১২ জন ঢাকা বিভাগের এবং ১১ জনের বয়স ষাটোর্ধ্ব।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২২৭তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে মোট ১১০টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৩ হাজার ৮৬০টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ৬১১টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৮০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৫৪২ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২১ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ হাজার ৬৯৯ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৪১ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৬ ও সুস্থতার হার ৭৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪ ও নারী ৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১২, চট্টগ্রামে ৩, রংপুরে ২ ও খুলনায় ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সের ১১ জন, ৫১-৬০ বছরের ৫ জন এবং ৪১-৫০ বছরের ২ জন। ১৮ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৩৮৫ ও নারী ১ হাজার ৩১৪ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৯৪ ও নারী ২৩ দশমিক ০৬ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৪১, খুলনায় ৪৫৮, রাজশাহীতে ৩৬৫, রংপুরে ২৫৯, সিলেটে ২৪০, বরিশালে ১৯৭ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১১৯ জন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৫ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৭৩০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ২২৪ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৮২৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৪১ হাজার ২৬৭টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে মোট ১১ হাজার ৭৩০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৩৪০টিতে। বাকি ৯ হাজার ৩৯০টি খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৪টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ২৯৫টি।