মাদক ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ‘ক্যাসিনো সম্রাটখ্যাত’ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নিয়েছে আদালত। চার্জ গঠনের জন্য ৩০ নভেম্বর ধার্য করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।
এদিকে গতকাল সকাল থেকে সম্রাটের সমর্থকরা আদালত এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তারা সম্রাটের মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে নানা ফেস্টুন দেখা যায়। পরে তারা সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে সম্রাটকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে পৌঁছলে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। আদালতে হাজির করা হবে বলে সকাল থেকেই তার নেতাকর্মীরা আদালতপাড়ায় ভিড় জমান। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসে তোলা হয়। ১১টা ৪০ মিনিটে সম্রাটের দুই মামলায় শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরুর আগে সাধারণ আইনজীবীদের বের করে দেন বিচারক।
সম্রাটের পক্ষে আইনজীবী গাজী জিল্লুর রহমান, আফরোজা শাহানাজ পারভীন (হীরা), মাহবুবুল আলম দুলাল শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, ‘সম্রাট একজন জনপ্রিয় নেতা। তাকে ভিকটিমাইজড করার জন্য যা যা করার দরকার তাই করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা তাকে ভালোবাসে। এজন্যই শত শত নেতাকর্মী আজ আদালতে ছুটে এসেছে তাকে দেখতে, তার মুক্তির দাবি নিয়ে।’ তারা আরও বলেন, ‘সম্রাট অসুস্থ। আমরা তার জামিন চাই। তাকে বাঁচতে দিন। বেঁচে থাকলে বিচার হবে।’ অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ পরে দেবেন বলে জানায়।
গত বছর ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে নিয়ে ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ৭ অক্টোবর র্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় দুটি মামলা করেন।