ধর্ষণ মামলায় একই সময়ে দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করায় ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জামান আনছারীকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। আগামী ১১ নভেম্বর মামলার নথিপত্র (কেস ডকেট) নিয়ে তাকে হাইকোর্টে আসতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মামলার এক আসামির জামিন শুনানিকালে বিষয়টি নজরে এলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাতের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল জলিল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো বিচারকের কাছে আসামি দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলে তাকে চিন্তাভাবনার জন্য এ বিষয়ে ন্যূনতম তিন ঘণ্টা সময় দিতে হয়। কিন্তু এখানে একই সময়ে দুজনের জবানবন্দি কীভাবে রেকর্ড করা হলো তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।’
গত বছরের ১৯ জুন আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ধর্ষণের শিকার ওই নারী তার বন্ধু নবীরুল ইসলাম রনির ফোন পেয়ে ২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় এক বান্ধবীকে নিয়ে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় যান। সেখান থেকে তারা দুজনসহ নবীরুল ও শাহাদাত একটি প্রাইভেটকারে ওঠেন। পরে বাদীর বান্ধবীকে একটি স্থানে নামিয়ে দিয়ে ওই তরুণীকে নবীরুল, শাহাদাত ও গাড়ির চালক কাউসার ওরফে হৃদয় ধর্ষণ করেন। গত বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার বাবুবাজার এলাকা থেকে শাহাদাত এবং পরে নবীরুল ও কাউসারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন বেলা ১২টায় মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারীর খাস কামরায় শাহাদাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে আসামি কাউছারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করেন বিচারক। এ মামলায় সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। আসামি শাহাদাত বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।