নেত্রকোনার বারহাট্টায় তৃতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় স্ত্রীর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মো. হাজিবুল (৪৮) নামে একজনের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মল্লিকপুর গ্রাম থেকে ভুক্তভোগী মনি আক্তারকে (৩০) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।
মনি মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর বরহাটি গ্রামের মৃত বারেক তালুকদারের মেয়ে। অভিযুক্ত হাজিবুল মল্লিকপুর গ্রামের মৃত খুরশেদ মিয়ার ছেলে।
চিকিৎসাধীন মনি দেশ রূপান্তরকে জানান, হাজিবুল প্রথমে তার বড় বোন নাসিমাকে বিয়ে করেন। তিনটি সন্তান রেখে বোন মারা যান। বোনের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বিবেচনা করে ১১ বছর আগে হাজিবুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। এরপর হাজিবুল কাজের জন্য ঢাকায় চলে যান। তার তেমন খবর নিতেন না। তিনি বেশিরভাগ সময়ই বাবার বাড়িতে থাকতেন। মাঝেমধ্যে স্বামীর বাড়ি যেতেন।
তিনি আরও জানান, এর মধ্যে গত ৯ অক্টোবর সিজারে তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সিজারের খরচপাতিও বাবার বাড়ির লোকজন দেন। কয়েক দিন আগে হাজিবুল তৃতীয় বিয়ে করে নতুন বউ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর প্রতিবাদ করায় তার ওপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে তাকে কিল-ঘুষি মারা শুরু করেন। সিজারের সেলাই করা পেটে লাথি মারলে রক্তক্ষরণ হয়। একপর্যায়ে সিগারেট দিয়ে তার মুখে ছ্যাঁকা দেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নেন।
এ ঘটনায় বারহাট্টা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্যাতিত মনির ফুপাতো ভাই নুরুজ্জামান কাঞ্চন। অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে বারহাট্টা থানার ওসি মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।