অ্যামচেমের ওয়েবিনারে বক্তারা

অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে নারীদের বিশেষ সহযোগিতা জরুরি

বৈশ্বিক মহামারী কভিডের প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রান্তিক পর্যায় থেকে তাদের প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। কভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে যা খুবই জরুরি। এ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ডিজিটাল জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে নারীদের যুক্ত করতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়নসংক্রান্ত এক ওয়েবিনারে গতকাল বুধবার বক্তারা এসব কথা বলেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ অ্যামচেম এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। স্পিকার এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। সঞ্চালনা করেন দোহা টেকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা। আলোচনায় অংশ নেন, প্রাণ আরএফএলের সিএফও উজমা চৌধুরী ও ওরাকল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাবা দৌলা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বলেন, কভিডের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অনেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যয় পড়েছেন। পণ্য বাজারজাত করতে না পেরে অনেকে নানা রকম সংকটে আছেন। এ ধরনের নারী উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারা কী ধরনের সমস্যায় আছেন, কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেটা জেনে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।

শিরীন শারমিন চৌধুরী আরও বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে উদ্যোক্তা নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়। নারী উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যার মধ্যে রয়েছে পুুঁজির সংকট, ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিপণন নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ও তথ্যের সংকট। সরকার বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে। বন্ধকবিহীন সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসহ অন্যান্য সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসবের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ, সঞ্চয়ের সামান্য টাকা দিয়ে ব্যবসা উদ্যোগে পুঁজির জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। ডিজিটাল জ্ঞান বলতে কেবল ফেইসবুক আর ই-মেইল চালানোকেই বুঝলে হবে না। তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসার সুযোগ করে নিতে হবে; বিশেষ করে কভিডে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আরও কী করা যায়, সে বিষয়ে ভাবতে হবে। শিরীন শারমিন বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে প্রযুক্তির সব ধরনের সুবিধা নিতে এ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে স্পিকারের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ডিজিটাল জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুযোগ প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের সন্তানদের জন্য অনলাইন স্টল করার পরিকপ্পনা আছে তাদের। নারীর ক্ষমতায়নে সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সিয়া টেম্বন বলেন, এ অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক খাতে নারী উদ্যোক্তারা অন্যান্য দেশের উদ্যোক্তাদের তুলনায় এগিয়ে। তবে সাধারণ নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য স্টল পর্যায় থেকে তাদের প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। অ্যামচেমের নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা ওয়েবিনারে অংশ নেন।