গ্লোবের করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আগ্রহী নেপাল

বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের আবিষ্কৃত করোনা টিকা ‘ব্যানকভিড’ মানবদেহে পরীক্ষায় (ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) আগ্রহী নেপাল। দেশটির রাষ্ট্রদূত বংশীধর মিশ্র বলেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করা ‘ব্যানকভিড’ নামের ওই ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছি। আপতত আমরা এই ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ সরকার রাজি থাকলে নেপাল এই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও আগ্রহী।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গ্লোব বায়োটেকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেপালের রাষ্ট্রদূত ব্যানকভিড টিকার ব্যাপারে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর আগে তিনি গ্লোব বায়োটেকের অফিস পরিদর্শন ও টিকার ব্যাপারে খোঁজখবর নেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের আগেই দুই মিলিয়ন ডোজ ‘ব্যানকভিড’ কেনার জন্য নেপালের আনমোল গ্রুপের সঙ্গে বায়োটেকের সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি দেশ থেকেও ২০ মিলিয়ন ডোজের অর্ডার এসেছে। গ্লোবের চেয়ারম্যান আরও বলেন,আমাদের আবিষ্কৃত এই ভ্যাকসিনটি দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করার জন্য আমরা সবদিক থেকে প্রস্তুত আছি। এখন এই ভ্যাকসিন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মানবদেহে ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হলে বাকি কাজগুলো আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারব।

সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপের অন্যান্য পরিচালক এবং গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের সিইও ডা. কাকন নাগ, সিএসও ডা. নাজনীন সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেকের আবিষ্কৃত তিনটি করোনা টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে ব্যানকভিড ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষার জন্য গ্লোব বায়োটেকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) চুক্তি করেছে। এখন আইসিডিডিআর,বি পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) আবেদন করবে। বিএমআরসি অনুমোদন দিলে মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হবে।