ফাঁসির আইনের পর ধর্ষণ আরও বেড়েছে : জাফরুল্লাহ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে ফাঁসির আইন করেছেন। এই ফাঁসি দিয়ে পৃথিবীর কোনো দেশে নারী নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণ বন্ধ হয়নি; বরং আরও বেড়েছে।’ গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে ফাঁসির আইন করেছেন। এই ফাঁসি দিয়ে পৃথিবীর কোথাও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আপনারা দেখেন আইন করার আগে এবং পরে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ কমেনি;বরং বেড়েছে। বাড়তে বাড়তে এখন বাড়ির শিশু, মাদ্রাসা ও স্কুলেও হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের নামে ছেলেখেলা করে লাভ নেই। বর্তমান সময়ে ভিন্ন নামে দেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এটা চলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ, রাস্তায় আসুন, দেখুন। আমাদের কথা বলার অধিকারটুকু দেন আর কিছু চাই না।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকের পত্রিকায় আছে, ভারত আমাদের কতটা লুণ্ঠন করেছে। ২০১৮ সালে ভারত বাংলাদেশ থেকে পেয়েছে ১২৮ বিলিয়ন ডলার। আর সারা মুক্তিযুদ্ধে ওনাদের খরচ ১০০ মিলিয়নও হয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অনেকেই বিশ^াস করে, প্রচার করা হয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের ধাত্রী এবং তিনি গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটাবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওনার সব কার্যকলাপ সম্পূর্ণ গণতন্ত্রবিরোধী। রাজনীতি করার এবং বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আমার আছে। কিন্তু সেটা আমাকে করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনার সুস্থতা কামনা করি। আপনার দয়া আমরা চাই না, আমরা আমাদের অধিকার চাই। মানুষের অধিকার দিলে, প্রকৃত সত্য আপনি পাবেন। আপনার দেশ শাসনের সুবিধা হবে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অন্ধ সিইসি আর কত দিন ক্ষমতায় রাখবেন জানি না। এই ভদ্রলোক নির্বিবাদে কীভাবে এত মিথ্যা কথা বলেন জানি না। খোদা ওনাকে দোজখে নিয়েও হয়তো খুশি হবেন না।’

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হলে জজ সাহেবদের বিবেকবান হতে হবে। জজ সাহেবরা এত ভীত যে এখনো লুকিয়ে থাকেন। ভার্চুয়াল কোর্ট করে বেড়ান।’