জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে ৩ হাজার বিঘা জমির জলাবদ্ধতা নিরসন

দিনাজপুরের ফুল বাড়ি উপজেলার খয়েরবাড়ি এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা নিরসন করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম।

শনিবার উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া এলাকায় কোদাল হাতে জেলা প্রশাসক ড্রেন নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ফুল বাড়ি উপজেলার খয়েরবাড়ি-দৌলতপুরসহ আশপাশের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে কোন ধরনের চাষাবাদ হচ্ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে কৃষকেরা দাবি জানিয়ে আসলেও কোন উপকার পায়নি। সর্বশেষ দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক নিজেই এই জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নেমেছেন।

দৌলতপুর মৌজায় দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে আলম সরকার তার ১ একর জমিতে কোন ধরনের চাষাবাদ করতে পারছিলেন না। আলম সরকার বলেন, আমার দুই বিঘা জমি পূর্বে থেকেই সেখানে ছিল। পরে এক বিঘা জমি ক্রয় করেছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে কোন চাষাবাদ করতে পারছিলাম না!

তিনি আরও জানান, মাত্র ৩০০ ফিট একটি ড্রেন না থাকায় হাজার হাজার কৃষকেরা তাদের জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারছিলাম না। ৩০০ ফিটের ড্রেনটি নির্মাণকাজ শেষ হলে কয়েক হাজার কৃষক পরিবার তাদের জমিতে ফসল ফলাতে পারব।

জানতে চাইলে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমাদের যেনো এক টুকরো জমিও ফাঁকা পরে না থাকে। তারই প্রেক্ষিতে ফুল বাড়ি উপজেলার খয়েরবাড়ি ও দৌলতপুর এলাকার প্রায় ২ হাজার একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে কৃষকেরা ফসল ফলানো থেকে বঞ্চিত ছিল। আমার কাছে বিষয়টি এলাকাবাসী জানালে আমি সরেজমিন পরিদর্শন করি। কয়েক হাজার পরিবার যাতে তাদের কৃষি জমিতে ফসল ফলাতে পারে সে জন্য একটি ৩০০ ফিট পরিমাণ ড্রেন নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তার প্রেক্ষিতেই আজকে এলাকাবাসীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ড্রেন নির্মাণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি আমি নিজেই তদারকি করব। এ ছাড়া ড্রেন নির্মাণের ফলে যেসব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে তারাও জমি এবং ফসলের ক্ষতিপূরণ পাবেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফুল বাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল হক সুমন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ প্রমুখ।