পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাস ৮৩৫ পরিবারের

বর্ষা কিংবা টানা বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামসহ পার্বত্য অঞ্চলে দেখা দেয় পাহাড়ধসের আশঙ্কা। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানার ১৭টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে ৮৩৫টি পরিবার। দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন সেখানে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে সরানো যাচ্ছে না তাদের। এর জন্য অবশ্য পাহাড় মালিকদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর পাহাড় মালিকদের যোগসাজশে পুনরায় সেখানে বসতি গড়ে তোলে বসবাসকারীরা। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বসতি স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে না পারলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালে পাহাড় ও দেয়ালধসে ১২৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকেই নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের মালিকানা ও বসতির তালিকা করে তা উচ্ছেদ করে আসছে ওই কমিটি। গত বছরের এপ্রিলে ওই কমিটিকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানোর নির্দেশ দেন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি পাহাড়ের মধ্যে ১০টি ব্যক্তিমালিকানাধীন। বাকি ৭টির মালিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় গৃহায়ন কর্র্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরেই এসব পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। এদিকে, গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর ফয়’স লেকসংলগ্ন ঝিলপাড় এলাকায় পাহাড়ে বসবাসরত শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়। বর্ষা কিংবা বৃষ্টিপাতের সময় ভূমিধসের আশঙ্কায় জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় এসব কার্যক্রম করে থাকে জেলা প্রশাসন। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে পাহাড় মালিকদের নিজ উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বরাবরই তা উপেক্ষিত থাকছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এস এম জাকারিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বারবার বলার পরও পাদদেশে বসবাসরতদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিচ্ছেন না পাহাড় মালিকরা। এমনকি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তাদের উদাসীনতার কারণে পুনরায় সেখানে বসতি গড়ে তোলে বসবাসকারীরা। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এসব বসতি স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে অচিরেই পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব পাহাড় মালিকের সঙ্গে বসে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আগামী বর্ষার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ৮৩৫ পরিবারকে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উচ্ছেদ করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৭টি পাহাড়ের মধ্যে রেলওয়ের মালিকানাধীন ফয়’স লেকসংলগ্ন ঝিল-১, ২, ৩ এলাকার পাহাড়ে শতাধিক পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসত করছে। সেখানে বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু পাহাড় মালিকদের উদাসীনতার কারণে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। রেলওয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো লিজও দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন এনজিও সংস্থাও এসব পাহাড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাহাড় মালিকরা যদি যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ না করেন, তাহলে পাহাড়ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।’