জাতিকে ধ্বংস করার জন্য অটো পাস : জাফরুল্লাহ

করোনার অজুহাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে অটো পাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন,  জাতিকে ধ্বংস করার জন্যই অটো পাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ‘করোনাকালীন পরীক্ষায় অটো পাস : শিক্ষার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ অভিযোগ করেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পরীক্ষা বাতিলে করোনার কারণটা একেবারেই অজুহাত। গার্মেন্টস চলছে, অফিস-আদালত চলছে। দেখে বোঝার কোনো কায়দা নেই, এখানে করোনার প্রভাব আছে। তাই স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার কোনোভাবেই সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, আমরা একটা কল্যাণকর বাংলাদেশ চাচ্ছি, যেখানে পরীক্ষা দিয়েই সবকিছুতে উত্তীর্ণ হতে হবে। আগের দিনের রাজনৈতিক কর্মীরা পরীক্ষা দিয়েই ধাপে ধাপে ওপরে আসতেন। এখন তো তা না, তাদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তন না হলে কিছু হবে না। এই পরিবর্তন করা আমি মনে করি খুব কঠিন কাজ না।

গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যারা অটো পাস দিয়েছে তারা বলে ইংল্যান্ড, ইউরোপে দিয়েছে, তাহলে আমরা দিলে সমস্যা কী। ডেফিনিটলি যেখানে সরকারই আটো পাসের সেখানে শিক্ষার্থীদের দিলে ক্ষতি কী।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী সবাই মিলে যদি মনে করে অটো প্রমোশন একটা লজ্জার বিষয়। এই সার্টিফিকেট সামনের দিনে লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাহলে ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে এখনই আন্দোলন করতে পারে। এই সরকার শুধু গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে তাই কিন্তু নয়। এরা শয়তানি বুদ্ধিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে, যেকোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেযে বেশি। ওরা নিজেদের স্বার্থে নিজেদের লোককে গুলি করে  দেবে এতটুকু কার্পণ্য করবে না।

 গোলটেবিলে উপস্থিত বিএনপি নেতা ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, কোনো অবস্থাতেই অটো পাস দিয়ে এই জাতিকে আর ধ্বংস করা যাবে না। সরকার অটো পাসে আসতে পারে, সংসদ সদস্য অটো পাসে আসতে পারে। কিন্তু শিক্ষায় অটো পাস দেওয়া যাবে না। ’৭২-এর গ্লানি মুছতে না মুছতেই আবার করোনার সময় এসে অটো পাস হবে, সেটাও আমরা মেনে নিতে পারছি না।

 গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।