নড়াইলে অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা

নড়াইলে অরুণ রায় (৭৩) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক কলেজশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার বেনাহাটি গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অরুণ রায় ২০০৮ সালে খুলনার বটিয়াঘাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে অবসরে যান।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ওই বাড়ির তিন কেয়ারটেকার বিপুল বিশ্বাস (৬০), বিধান রায় (৫৮) ও অরবিন্দু দাস (৫৫) এবং স্থানীয় ভ্যানচালক অমরেশ রায়কে (৩৮) আটক করেছে। অরুণের স্ত্রী নিভা রানী পাঠক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের উপপরিচালক।

জানা গেছে, অরুণ রায় বেনাহাটি গ্রামে নিজ বাড়িতে একা থাকতেন। তার স্ত্রী চাকরির সুবাদে খুলনায় এবং প্রকৌশলী ছেলে ও চিকিৎসক মেয়ে জেলার বাইরে থাকেন। স্বজনরা জানান, শুক্রবার সকালে অরুণ রায়কে ফোন করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় সন্ধ্যায় স্ত্রী নিভা রানী ও ছেলে ইন্দ্রোজিৎ রায় বাড়িতে আসেন। কলবেল চাপলেও তার কোনো সাড়া-শব্দ পাননি তারা। পরে মই বেয়ে দোতলা ভবনের দরজা ভেঙে ঘরে অরুণের গলাকাটা লাশ দেখতে পান।

নিভা রানী বলেন, ‘আমার স্বামী একজন নিরীহ লোক। তার কোনো শত্রু থাকতে পারে না। কে বা কারা তাকে এভাবে হত্যা করল, তার বিচার চাইছি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।’

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ ইমরান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শত্রুতাবশত কেউ অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক অরুণ রায়কে হত্যা করেছে। পুলিশ ছাড়াও সিইডি, পিবিআই নানা ধরনের নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনাটি তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, অরুণ রায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে চা পান করে বাড়ি ফেরেন। তার ধারণা, ওই দিন রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির দোতলায় উঠে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। অত্যন্ত ভদ্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন অরুণ রায়। কারও সঙ্গে তার বিরোধ ছিল না।

নড়াইল সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে অরুণ রায়ের লাশ গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন।