কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে কাটখাল ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামে রান্না করার সিলিন্ডার গ্যাসের আগুনে শিশু-নারীসহ একই পরিবারের ৯জন দগ্ধ হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার কাটখাল ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের আবদুস সালামের বাড়িতে রান্না করার সময় পাইপের লিক থেকে গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এতে গৃহকর্তা আবদুস সালামের স্ত্রী সিপাইনেছা (৫৮), দুই ছেলে কামাল (৩৫) ও আনোয়ার (১৭), মেয়ে তাসলিমা (২৫), নাতি উম্মে হাবিবা (৪ দিন) ও উম্মে হানি (৩) এবং তাদের স্বজন পারভিন (১৫) ও জুয়েনাসহ (২০) মোট ৯জন অগ্নিদগ্ধ হয়। তাদের সবাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আটজনকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চার দিনের একটি শিশু ছাড়া বাকি সবার শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের সবাইকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী কাটখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি শামসুল হক রানা জানান, হাজিপুর গ্রামের আবদুস সালামের ঘরে রান্না করার সিলিন্ডারের পাইপে ছিদ্র ছিল। সেই ছিদ্র দিয়ে আগেই গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়েছিল। সালামের স্ত্রী সিপাইনেছা রান্না করতে গিয়ে চুলা জ্বালাতে পারছিলেন না। এ সময় তারা বাইরে থেকে আগুন নিয়ে চুলা জ্বালাতে গেলে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ আগুনেই তারা দগ্ধ হয়। পরে এলাকাবাসী গিয়ে ঘরের আগুন নেভানোসহ দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
মিঠামইন থানার কাটখাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. মাসুদ মিয়া জানান, দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে চার-পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। গ্যাস ব্যবহারে অজ্ঞতার কারণেই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সিলিন্ডার থেকে যে প্লাস্টিকের পাইপটি চুলায় গেছে। সেটিতে কোনো সমস্যা রয়েছে কি-না, এ বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে অনেকে খেয়াল করে না। আর এ অসাবধানতার কারণেই এতগুলো লোক দগ্ধ হয়েছে।