দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার অনেক কমেছে। প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১১ হাজার নমুনা পরীক্ষায় আরও ১ হাজার ৯৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ দশমিক ৯৫ জন করে। শনাক্তের এই হার গত ১৭৫ দিন বা প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২ মে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তারপর থেকে গতকালই প্রথমবারের মতো শনাক্তের হার ১০ এর নিচে নামল। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ১৯ জন রোগী মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ১৩ জনই ঢাকার বাসিন্দা এবং ১০ জনের বয়স ষাটোর্ধ্ব।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৩১তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে মোট ১১১টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১০ হাজার ৫৫৬টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১০ হাজার ৯৯৮টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৯৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৪৯৮ রোগী সুস্থ হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ হাজার ৭৮০ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৩ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৫ ও সুস্থতার হার ৭৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ ও নারী ২ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩, চট্টগ্রামে ৩, ময়মনসিংহে ২ এবং খুলনায় ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সের ১০, ৫১-৬০ বছরের ৩, ৪১-৫০ বছরের ৪, ৩১-৪০ বছরের ১ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ১ জন। ১৯ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৪৫২ ও নারী ১ হাজার ৩২৮ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ০২ ও নারী ২২ দশমিক ৯৮ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭৬ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৫৩, খুলনায় ৪৬৩, রাজশাহীতে ৩৬৯, রংপুরে ২৬০, সিলেটে ২৪১, বরিশালে ১৯৭ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১২১ জন মারা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৯ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৪৮১ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ১২০ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৮৩০ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৮ হাজার ৭০০টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৭৩০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৪৩৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৪টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ৩০১টি।