সেই পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে রায়হানের মা

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন ‘পুলিশি নির্যাতনে মারা যাওয়া’ রায়হান আহমেদের মা সালমা বেগম।

রবিবার সকাল ১১টা থেকে রায়হানের পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিয়ে তার মা এবং আখালিয়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অনশন কর্মসূচি শুরু করেন।

রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যার মূল অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেনসহ বাকি অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়েছেন।

পুলিশ প্রথম থেকেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, মামলার প্রধান আসামি ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া পলাতক। কিন্তু বরখাস্ত হওয়া সব পুলিশ সদস্যকে এখনো গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর ১৫ দিন অপেক্ষা করেছি। তবু সব আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তাই তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছি।’

গত ১১ অক্টোবর রায়হান আহমেদ পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন অবস্থায় নির্যাতনে মারা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশের বিভাগীয় তদন্তের পর প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির মোট চারজন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হয়।

ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং হারুন উর রশিদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে তদন্ত সংস্থা পিবিআই।

তবে রায়হান মারা যাওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন আকবর হোসেন। তাকে পালাতে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।

রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগকরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের দায়ী করে একটি মামলা করা হয়

ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ মানুষ।