মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব

পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংকসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ড ইস্যুর সুবিধা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুঁজিবাজার পরিস্থিতিতে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এমন পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে এসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, কমিশনার শেখ সামসুদ্দিন আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে এসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল- ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংককে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান। এ প্রেক্ষিতে গভর্নর জানান, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তারা ইতিমধ্যেই ব্যাংকগুলোর জন্য সহজ শর্তে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

রেপো সুবিধার মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংকগুলোর জন্য ২০০ কোটি টাকা করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ৫৭টি ব্যাংকের ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৫৭০ কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে, যা খুবই কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে এসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা এসব বিনিয়োগ নিয়ে সব ব্যাংকের আশানুরূপ সাড়া পাইনি। কীভাবে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিল গঠন ও বিনিয়োগে অনাগ্রহ, তা খতিয়ে দেখবে এসইসি। কীভাবে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করা যায় ও সহায়ক ভূমিকা রাখা যায় তা নিয়ে কাজ করবে এসইসি।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পুঁজিবাজারে যে ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে তাতে সিংহভাগ ভূমিকা রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বেনিফিশিয়ারি, কারণ তারা মূলধন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নিয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমরা চিন্তা করেছি কীভাবে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়টিতে আরও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সহজ শর্তে তহবিল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন ব্যাংকগুলো সুযোগ নেবে কি না, তা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যাপার। তবে এসইসি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকসহ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জিন ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে ঋণাত্মক ইকুয়িটি সমস্যা কাটাতে তাদের বন্ড ইস্যুর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। তবে এসইসির বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ড ইস্যু করতে পারে না। গতকাল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতসহ বন্ড ইস্যুসংক্রান্ত নীতিমালায় এসইসিকে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।    

অপরদিকে মার্জিন ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে যেসব ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নেগেটিভ ইকুয়িটি সমস্যায় ভুগছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য এসইসি একটি তহবিল গঠনের চিন্তা করছে বলে জানান শামসুদ্দিন। তিনি বলেন, এখন অর্থ কোনো সমস্যা নয়, প্রয়োজন সঠিক নীতিমালা। এসইসি এই তহবিল নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংককে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের সব অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে এসইসি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, এটি সম্ভব না-ও হতে পারে। কারণ বিশেষ তহবিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুঁজিবাজারে বড় আকারে বিক্রির চাপ আসতে পারে, যার ফলে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক চায় না। এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষ তহবিলের ৪০ শতাংশ ব্যাংক তার নিজস্ব পোর্টফোলিওতে নিতে পারে।  

তিনি জানান, ব্রোকারেজ হাউসের ডিজিটাল বুথ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের ভেতর বুথ খুলতে কোনো সমস্যা নেই। যেহেতু আমরা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশের বিভিন্ন দেশে বুথ খুলতে চাচ্ছি, সেখানে পরিচালনগত কোনো ঝুঁকি বা আইনগত কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা নিয়েও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো অবজেকশন নেই। যারা বুথ খুলবে, তাদের নিটা অ্যাকাউন্ট রয়েছে।