কমিউনিস্ট নেতা জুনোর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

কমিউনিস্ট নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনোয়ার খান জুনোর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রবিবার জুনোর বড় ভাই হায়দার আকবর খান রনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

নিউমোনিয়ার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ৭৬ বছর বয়সী হায়দার আকবর খান জুনোকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩৭ দিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন জুনো।

জুনোর মেয়ে অনন্যা লাবণী পুতুল গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার বাবার শারীরিক অসুস্থতার ব্যাপারে জানতে রবিবার সকালে চাচা হায়দার আকবর খান রনোর কাছে ফোন করেন। এ সময় বাবা ও মায়ের চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। তিনি আমাদের বাড়িতে প্রতিনিধির মাধ্যমে আমার মা বেগম মাহবুবা রাশিদা চপলের কাছে তার চিরন্তন ভালোবাসা ও সহমর্মিতা পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বাবার সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের অত্যন্ত সৌভাগ্য যে, প্রধানমন্ত্রী বরাবরই আমাদের পরিবারের প্রতি গভীর মমতা লালন করেন। এবারও পারিবারিক চরম দুর্যোগের মুহূর্তে তার স্নেহ স্পর্শ আমাকে সিক্ত করেছে। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তার প্রতি  অশেষ কৃতজ্ঞতা।”

জুনোর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অনন্যা লাবণী বলেন, “বাবার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ও অপরিবর্তিত রয়েছে।”

কমিউনিস্ট নেতা হায়দার আকবর খান রনোর ছোট ভাই জুনোর জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায়। তাদের পৈতৃক নিবাস নড়াইলের বরাশুলা গ্রামে। পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন জুনো। তখন তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী। তার ভাই রনো তখন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। পরে জুনো ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ষাটের দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে পড়া জুনো ছিলেন চীনপন্থি শিবিরে। ১৯৭০ সালে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে তিনি এর সভাপতির দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার পর জুনো লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইউনাইডেট পিপলস পার্টির (ইউপিপির) সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক হন। ১৯৭৯ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত হলে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন তিনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন জুনো। প্রয়াত আবদুল মান্নান ভূঁইয়াদের সঙ্গে তিনি নরসিংদীর শিবপুরে প্রতিরোধ যুদ্ধেও ছিলেন।