২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে

দেশে এক দিনের ব্যবধানে করোনাভাইরাস সংক্রমণে নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। গত শনিবার ১৭৫ দিনের মধ্যে সর্বনি¤œ হারে রোগী শনাক্তের পরদিন গতকাল রবিবার দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩০৮ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৩ রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। মৃতদের মধ্যে ১৯ জনই ঢাকার বাসিন্দা এবং ১৬ জনের বয়স ষাটোর্ধ্ব। এ নিয়ে এদিন দেশে করোনায় মোট মৃত্যু ৫ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে শেষ এক সপ্তাহে (১৮-২৪ অক্টোবর) আগের সপ্তাহ থেকে করোনায় মৃত্যু কমেছে ৮ ভাগের বেশি। এ ছাড়া পরীক্ষা ৫ ভাগের বেশি বাড়লেও শনাক্ত বাড়েনি। উল্টো সামান্য কমেছে। আর শেষ সপ্তাহে সুস্থ বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৩২তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে মোট ১১১টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১১ হাজার ৭৫৭টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১১ হাজার ১০৩টি। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৩০৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৫৪৪ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮১৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ হাজার ৮০৩ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১০৭ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৬ ও সুস্থতার হার ৭৯ দশমিক ০১ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৯ ও নারী ৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯ এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সের ১৬, ৫১-৬০ বছরের ৩, ৪১-৫০ বছরের ৩ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন। ২৩ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৪৭১ ও নারী ১ হাজার ৩৩২ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৭ দশমিক ০৫ ও নারী ২২ দশমিক ৯৫ ভাগ। বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৯৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৫৪, খুলনায় ৪৬৪, রাজশাহীতে ৩৭০, রংপুরে ২৬১, সিলেটে ২৪১, বরিশালে ১৯৭ ও ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১২১ জন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২১ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৫৭৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ১০৪ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৭৩১ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে ৪৬ হাজার ৬৮৩টি কল এসেছে। সারা দেশে কভিড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৭৩০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৪২৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৬৪টি আইসিইউর মধ্যে খালি ছিল ৩০৮টি।