যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দুই দিনের সফরে গতকাল সোমবার ভারতে পৌঁছেছেন। গতকালই দিল্লিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই বৈঠকে সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত সম্পর্ক জোরালো করাই তার এই সফরের লক্ষ্য।
এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে পম্পেওকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টার। পৌঁছানোর পরই পম্পেও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মঙ্গলবার তিনি ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার এক যৌথ সম্মেলনে বসবেন জয়শঙ্কর ও ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে। ওই দিনই পম্পেও এবং এসপার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়াজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করাই এ সফরের লক্ষ্য।
চীনকে মোকাবিলার জন্য ভারতসহ এই সফর যে গুরুত্বপূর্ণ তা বলতে কোনো গোপনীয়তা রাখেননি মাইক পম্পেও। তিনি বলেছেন, আমি নিশ্চিত এসব বৈঠকে আলোচনা হবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির হুমকি মোকাবিলায় স্বাধীন দেশগুলো কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারে।
আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আগামী বৈঠকে ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বাড়াবে।
আর টু প্লাস টু বৈঠক সম্পর্কে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এর ফলে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে আঞ্চলিক তথ্য আদান-প্রদান আরও বাড়বে। আমরা সেনা প্রতিরক্ষা ও বিদেশ সচিব পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি আরও জোরদার ও সুরক্ষিত করতে চাই।
পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) ভারত-চীন সেনার মধ্যে উত্তেজনা চলছে মে মাসের গোড়া থেকে। ১৫ জুন গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সেনা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তার পর নয়াদিল্লি-পেইচিং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা শুরু হলেও এখনো স্বাভাবিক স্থিতাবস্থা ফেরেনি। গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, এলএসিতে ভারত-চীন উত্তেজনার ওপর নজর রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। নয়াদিল্লির সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান চলছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ না হোক, সেটাই চায় তারা।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান দিল্লি সফর করেছেন। তিনি চীনকে ঘরে থাকা হাতি বলে উল্লেখ করেছেন।
ভারত সফর শেষে পম্পেও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ যাবেন। ভারত মহাসাগরীয় দেশ দুটিতে চীন অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে; যা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পম্পেওর এশিয়া সফর শেষ হবে ইন্দোনেশিয়া গমনের মধ্য দিয়ে।