দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজগুলোকে দৃষ্টিবিভ্রমের মাধ্যমে ভুলপথে পরিচালিত করে জার্মানিকে সহায়তা করেছিলেন ম্যাজিশিয়ান জ্যাসপার মাসকেলিন। তার তৈরি করা কৌশলের কারণে যুদ্ধের ময়দানে মিত্ররা সহজেই বোমা লুকিয়ে ফেলতে পেরেছিল। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
জ্যাসপার মাসকেলিন
১৯৮৩ সালে টেলিভিশনের পর্দায় অভিনব একটি জাদুর প্রদর্শনী সরাসরি দেখানো হয়। জাদুটি দেখিয়েছিলেন বিখ্যাত জাদুকর ডেভিড কপারফিল্ড। টেলিভিশনের সামনে অপেক্ষারত একদল দর্শক, তাদের চোখের সামনে নিউ ইয়র্ক সিটির দ্য স্ট্যাচু অব লিবার্টি কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য করে দিলেন ডেভিড। স্তম্ভিত পুরো বিশ্ব। সেই ঘটনা যারা নিজ চোখে দেখেছিলেন তারা জানেন কতটা বিস্ময়কর ছিল মুহূর্তটুকু। এ তো গেল টেলিভেশনে দেখানো রুদ্ধশ্বাস এক জাদুর গল্প। এই ঘটনার চল্লিশ বছর আগে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও। যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর বিরুদ্ধে জাদুর ব্যবহার হয়েছিল সে সময়। তবে সেটি ঠিক অদৃশ্য হওয়া ছিল না। একদম এর বিপরীত অর্থাৎ সহজ ভাষায় যাকে ভ্যানিশ হয়ে যাওয়া বলে তেমনটি হয়েছিল। দৃষ্টিবিভ্রমের চূড়ান্ত অবস্থাও বলা যায় একে। আর এ ঘটনার পেছনে যে ব্যক্তিটি ছিলেন তার নাম জ্যাসপার মাসকেলিন।
জ্যাসপার মাসকেলিনের জন্ম ১৯০২ সালে, লন্ডনে। জ্যাসপারের শরীরে জাদুকরের রক্ত বইছিল জন্ম থেকেই। তার বাবা নেভিল ও দাদা জন নেভিলও ছিলেন বিখ্যাত জাদুকর। নিজেদের পেশায় তারাও ছিলেন সুপরিচিত নাম। কীভাবে জ্যাসপার এ পেশায় এলেন সেটি জানতে হলে গল্পের একটু পেছনের দিকে যেতে হবে। যেখানে আগে জানতে হবে জ্যাসপারের দাদা আর বাবার সম্পর্কে।
জ্যাসপারের দাদা জন নেভিলের সময় জাদুকর হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন দুই ভাই ইরা ইরাস্টাস ডেভেনপোর্ট এবং উইলিয়াম হেনরি ডেভেনপোর্ট। আমেরিকান এই দুই জাদুকর দাবি করতেন তারা অতিপ্রাকৃত দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করতে সক্ষম। ‘স্পিরিট ক্যাবিনেট’ নামে একটি প্ল্যানচেট টেবিলের মাধ্যমে তারা মৃত আত্মাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এই দুই ভাইয়ের তৈরি বিখ্যাত ডেভেনপোর্ট ব্রাদার্স শোতে অংশ নিয়ে জন নেভিল বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল ১৮৬৫ সালে। জন নেভিল এই দুই ভাইয়ের অতিপ্রাকৃত বিষয়টির সঙ্গে একমত ছিলেন না। ডেভেনপোর্ট ব্রাদার্সের একটি জনপ্রিয় কৌশল ছিল মিউজিক বক্স। দর্শকদের সামনে এই বক্স উন্মুক্ত করে তিনি দেখিয়েছিলেন এতে আসলে অতিপ্রাকৃত বলতে কিছুই নেই। তিনি নিজেই এমন একটি বক্স বানাতে পারেন। এ ঘটনায় দর্শকদের কাছ থেকে বেশ বাহবা পান তিনি। এমন সাফল্য পাওয়ার পর জাদুক্ষেত্রে তিনি নিজের কাজ শুরু করেন। জন নেভিল দৃষ্টিবিভ্রম নিয়েও কাজ করতেন। জাদুকরের পাশাপাশি তিনি একজন উদ্ভাবকও ছিলেন। কয়েন দিয়ে পাবলিক বাথরুম লক করা বা খোলা এই উদ্ভাবনটি জন নেভিল করেছিলেন। তিনি যে পথ বেছে নিয়েছেন সে পথে সহজেই অন্য কেউ হাঁটবে এমনটি কেউ না ভাবলেও তার ছেলে নেভিল বেছে নিয়েছিলেন একই পথ। নেভিলের জন্ম হয় ১৮৬৩ সালে। বাবার তৈরি করা মাসকেলিন লিমিটেডের উত্তরাধিকারী ছিলেন তিনি। তিনি হয়তো সফল জাদুকর হতে পারেননি কিন্তু সফল উদ্ভাবক ছিলেন। ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফির অন্যতম আবিষ্কারক তিনি। জাদুকর হিসেবে ক্যারিয়ার না হলেও জাদু নিয়ে বেশ কয়েকটি বই লিখেছিলেন নেভিল। যেমন আওয়ার ম্যাজিক : দ্য আর্ট ইন ম্যাজিক, দ্য থিওরি অব ম্যাজিক, দ্য প্র্যাকটিস অব ম্যাজিক, অন দ্য পারফরম্যান্স অব ম্যাজিক। ম্যারি অ্যাডলিকে বিয়ের পর তাদের সংসারে তিন সন্তানের জন্ম হয়। দৃষ্টিবিভ্রমের এমন জগতে পরিবারের অন্যরা আসবে সেটা কিছুটা আন্দাজ করাই যাচ্ছিল। হয়েছিলও তাই। ছোট দুইজন আগ্রহ দেখিয়েছিল, তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিল ছোট ভাই জ্যাসপার। বাবার মতো ১৯৩৬ সালে তিনিও একটি বই লেখেন ‘দ্য বুক অব ম্যাজিক’ নামে। এই বইতে তিনি বিভিন্ন কৌশল, হাতের খেল, কার্ড নিয়ে বিভিন্ন পদ্ধতি, বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নানা উপলব্ধি সম্পর্কে লিখেছেন। এসব থেকেই বোঝা যাচ্ছিল তার পেশা কতটুকু সফল হতে যাচ্ছে।
যুদ্ধের ময়দানে জ্যাসপারের যাত্রা
১৮৯৬ সালে ফ্রান্সের চার ভাই চার্লস, এমিলি, থিওফিল এবং জ্যাকুয়েস পাথে মিলে একটি ফিল্ম বিজনেস গ্রুপ চালু করেন। চলচ্চিত্র জগতে তারা বেশ পরিচিত ছিলেন। এই গ্রুপের সঙ্গে মিলে জ্যাসপার ১৯৩৭ সালে ‘দ্য ফেমাস ইলিওশনিস্ট’ নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেন। এতে জ্যাসপারকে ব্লেড খাওয়ার একটি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। এই এক দৃশ্য যে কত দর্শককে মোহিত করেছে সেটা জ্যাসপার ভক্তরাই ভালো বলতে পারবেন। শুধু এমন ধারালো জিনিস খেয়ে ফেলাই নয়, জ্যাসপার দক্ষ ছিলেন হাতের বিভিন্ন খেল দেখাতেও, এছাড়া কার্ড ও দড়ি দিয়ে নানা কৌশল তো ছিলই।
সবকিছু দারুণভাবে চলছিল। হুট করেই যুদ্ধের কালো ছায়া দেখা দিল। জ্যাসপারের টিকিট বিক্রিও কমে গেল। তিনি ভাবতে লাগলেন কীভাবে তার এই জাদু দক্ষতাকে কাজে লাগানো যায়। যেহেতু সে মুহূর্তে দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে জাদু দেখানোর মতো অবস্থা ছিল না, তাই তিনি ঠিক করলেন মিলিটারি ইউনিটের সঙ্গে মিলে কাজ করবেন। যুদ্ধের ময়দানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দড়ি ধরে ঝোলা, বন্দুক নিয়ে চলাচল সবকিছুই খুব মনোযোগ সহকারে শেখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তার মূল দক্ষতা যেখানে সেই জাদু নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে কেউ তেমন কোনো উৎসাহ দেখাল না। আবার তার ৩৭ বছর বয়স হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধের ময়দানের জন্য তিনি আদর্শ প্রার্থীও ছিলেন না। তবুও তিনি অবিরাম আর ক্লান্তিহীনভাবে সবাইকে জাদু দেখিয়ে যেতেন। অবশেষে তার প্রচেষ্টা সার্থক হয়। যুদ্ধ যখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, রয়্যাল ইঞ্জিনিয়াররা তখন জ্যাসপারকে তালিকাভুক্ত করলেন। তারা ভেবেছিলেন জ্যাসপারের দৃষ্টিবিভ্রমের যে ক্ষমতা আছে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে শত্রুপক্ষকে কাবু করা যাবে।
আর্মি জ্যাসপারকে মিলিটারি ট্রেনিং স্কুলে নিয়ে আসে। এখানে একদল নতুন মানুষের সামনে এসে তাকে দাঁড়াতে হয় যারা জাদু বলতে বিশ্বাস করে এটা মূলত কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। জ্যাসপার চেষ্টা করলেন তাদের সরাসরি কোনো দৃশ্য দেখিয়ে তার কাজ বিষয়ে বোঝানোর জন্য। একটি ট্যাংককে দৃষ্টিবিভ্রম করে গাছের ঝাড় বানিয়ে দেখালেন। কিন্তু খুব একটা প্রত্যাশিত ফল এলো না। বরং তার ওপর সবাই কিছুটা বিরক্তই হলো। সহকর্মীরা তাকে বিশ্বাস না করলেও জ্যাসপার অন্য একটি পথ পেয়ে গেলেন। ট্রেনিং স্কুলে একজন ইন্সপেক্টর জেনারেলের আসার খবরে জ্যাসপার ঠিক করলেন মেশিনগান বাঙ্কার দিয়ে নিজের প্রতিভা প্রদর্শন করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। যখন জেনারেল এসে সবকিছু ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন তখনই মেশিনগানটি মানুষের মতো পায়ে হাঁটা শুরু করল। জ্যাসপারের এমন জাদুর দক্ষতা দেখে জেনারেল মুহূর্তেই তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে রাজি হলেন। জ্যাসপারের পরবর্তী জায়গা হলো উত্তর আফ্রিকায়।
আফ্রিকার যুদ্ধক্ষেত্রে
জ্যাসপার ১৯৪১ সালে মিসরের কায়রোতে আসেন। এখানে এসে নিজের দক্ষতা প্রকাশের একটি জায়গা পান তিনি। এখানেও তিনি প্রত্যাখ্যাত হলেন। সেনারা বলত তার এই দৃষ্টিবিভ্রম নামক জাদুবিদ্যা কেবল বিনোদন দেওয়ার জন্য, যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে কাবু করাতে এটি কোনো কাজেই আসবে না। এবার জ্যাসপার নিজের মতো করে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবলেন। কয়েকজন কমরেড নিয়ে বানিয়ে ফেললেন ‘দ্য ক্যামোফ্লাজ এক্সপেরিমেন্টাল সেকশন’ নামে নিজস্ব একটি ইউনিট। তবে এই নামটি তার তেমন পছন্দ না হওয়ায় নিজেই নাম বদলে রাখলেন ‘দ্য ম্যাজিক গ্যাং’। এই গ্রুপে শুধু তারাই যুক্ত ছিলেন যারা বিভিন্ন নিয়ম ভঙ্গ করার জন্য রাজি ছিলেন। এখানে কার্টুনিস্ট, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, কেমিস্ট, কার্পেন্টারসহ অনেকেই ছিলেন। কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও ম্যাজিক গ্যাং ব্লেড খাওয়া আর বাতাসে ট্যাংক ভ্যানিশ করে দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো কাজই করতে পারছিল না।
জ্যাসপারের অপেক্ষার পালা শেষ করার সময় এগিয়ে আসে। মধ্যপ্রাচ্যে জরুরি একটি সাপ্লাই পয়েন্টে জার্মান বোমারুরা আক্রমণের শিকার হলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ডাক পড়ে জ্যাসপারের। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজগুলো ভূমধ্যসাগর পার হয়ে আলেক্সান্দ্রিয়া নৌঘাঁটিতে নোঙর করত আর জার্মান বিমান থেকে গুলি ছুড়লে দ্রুত পার পেয়ে যেত। ম্যাজিক গ্যাং-এর কাজ ছিল খুব সহজ। শুধু আলেক্সান্দ্রিয়া ঘাঁটি অদৃশ্য করে দেওয়া।
জ্যাসপার ও তার গ্যাং-এর জন্য এটি অনেক বড় একটি সুযোগ ছিল। ম্যাজিক গ্যাং পুরো ঘাঁটি খুব ভালো করে ঘুরে বেশ কয়েকটি ছবি এঁকে সমাধান বের করে ফেলল। শত্রুপক্ষকে ফাঁদে ফেলার জন্য জ্যাসপার তার গ্যাংকে সঙ্গে নিয়ে কার্ডবোর্ড দিয়ে একটি নকল ঘাঁটি বানায়। একশজনেরও বেশি সেনা মিলে এই ঘাঁটি থেকে কিছুটা দূরে মারিয়ুত উপসাগরে এই নকল ঘাঁটি বানানোর কাজ করা হয়। নকল ঘাঁটিটি দেখতে একদম সত্যি ঘাঁটির মতো ছিল না, আকাশ থেকে দেখতে যেমন দেখা যায় সেভাবেই এটিকে তৈরি করা হয়েছিল। পাইলটের নজরে দেখতে কেমন দেখায়, ছায়ার ব্যবহার, ঘাঁটির আলো সবকিছু মিলে নকল ঘাঁটিটি যুদ্ধের জন্য একদম প্রস্তুত ছিল। ছয়শ ট্যাংক, হাজারখানেক আর্মির ডামি, ব্যারাক এমনকি তেলের পাইপলাইনও বানানো হয়েছিল। শত্রুদের বিশ্বাস জোগাতে রেডিও সিগন্যালের মতো পদ্ধতিগুলোও চালু রাখা ছিল। বলাবাহুল্য, এই ফাঁদ দারুণভাবে কাজে লাগে উত্তর আফ্রিকার এল আলামিনের এই যুদ্ধে। যখন শত্রুপক্ষের জাহাজ এসে পৌঁছায় তখন আলেক্সান্দ্রিয়ার সব লাইট বন্ধ করে মারিয়ুতের লাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ আর লাইট দিয়ে দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি করা হয় এবং বিস্ফোরণের জন্য বোমা রাখা হয় নির্দিষ্ট স্থানে। দৃষ্টিবিভ্রমের এই ঘটনা সম্পূর্ণরূপে সফল হয়। পরপর তিন রাতে পাইলটরা গুলিবর্ষণে সফল হয়। এই জয়ের পর জ্যাসপার ও তার দলের প্রচুর প্রশংসা হয় এবং জ্যাসপারকে প্রমোশন দেওয়া হয়। যুদ্ধের ময়দানে তার এমন পদ্ধতি শত্রুপক্ষকে দমন করতে অনেক কাজে আসে। শুধু এই ঘটনাই নয়, লাইটের ছায়া আর বিভিন্ন ডামি অন্যান্য নৌবাহিনীকে ভুলপথে পাঠাতে সক্ষম হয়।
আলেক্সান্দ্রিয়া ঘাঁটির পর, জ্যাসপার সুয়েজ ক্যানেলে সুসজ্জিত আলোকসজ্জা দিয়ে মিত্রদের রক্ষার জন্য একটি পথ তৈরি করেন। এই ঘূর্ণায়মান লাইটগুলো আয়না দিয়ে তৈরি ছিল আর ২৪ ঘণ্টা বিমানবিরোধী সার্চলাইট হিসেবেও কাজ করত। এই পদ্ধতির কারণে মিত্ররা নিরাপদ স্থানে বোমা রেখে আসতে পারত নিশ্চিন্তে। যদিও এই ঘটনার খুব জোরালো কোনো প্রমাণ নেই। জ্যাসপারের কাজগুলো যখন ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে একত্রিত করা হচ্ছিল তখন এই ঘটনার তেমন কোনো প্রমাণ হয়তো রাখা হয়নি। ইতিহাসবিদ বা গবেষকরা কেউ এই ঘটনার এখনো জোরালো কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
শেষ জীবন
১৯৪৯ সালে জ্যাসপার তার লেখা বই ‘ম্যাজিক টপ সিক্রেট’-এ যুদ্ধের এই ঘটনা নিয়ে লিখেছেন, তিনি সরাসরি এতে অংশ নেননি তবে কৌশলগুলো তার বানানো ছিল। যুদ্ধ শেষে এই ম্যাজিশিয়ান আবারও স্টেজে ফিরে আসেন এবং ওয়েসেক্স ম্যাজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আর টেলিভিশনের প্রতিযোগিতার কারণে তার শো দেখার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমতে থাকে। জ্যাসপারের ছেলে এলিস্টারেরও এই পেশায় কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি শুধু নামেই ‘যুদ্ধের জাদুকর’ হিসেবে রয়ে গিয়েছিলেন। এই নামে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিচিতিও তিনি পাননি। এই বিষয়টি তাকে বেশ দুঃখ দেয়। তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ১৯৭৩ সালে কেনিয়ায় এই যুদ্ধের জাদুকরের মৃত্যু হয়।