পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মচারী হিসেবে অবসর নেওয়ার ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাননি পঞ্চগড়ের মাইনউদ্দীন আহমেদ। আর্থিক সংকট ও অসচ্ছলতার কারণে জেলা শহরের মিঠাপুকুর এলাকার সরকারি ‘জরাজীর্ণ’ বাসায় পরিবার নিয়ে এখনো বসবাস করছেন তিনি। মাইনউদ্দীনের দাবি, পাউবো ঠাকুরগাঁও পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ (পওর) সার্কেলের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর একটি ভুলের কারণে যথাসময়ে তার চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ায় পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তিনি। এ নিয়ে পাউবোর প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল পাননি মাইনউদ্দীন। এ ঘটনায় মৃত্যুর আগে পেনশন পেতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
আবেদনে বলা হয়, ১৯৬৭ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী পাম্প চালক (অনিয়মিত) হিসেবে যোগদান করেন মাইনউদ্দীন। ১৯৮০ সালে ঠাকুরগাঁও পওর সার্কেল থেকে সব অনিয়মিত পাম্প চালক ও সহকারী পাম্প চালকদের নিয়মিত করা হলেও মাইনউদ্দীনের নাম ভুলবশত তালিকাভুক্ত হয়নি। এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী পরিদপ্তরে আবেদন করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সাল থেকে মাইনউদ্দীনকে নিয়মিত করার সুপারিশ হিসেবে ওই সার্কেল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে চিঠি দেন পরিদপ্তরের উপপরিচালক। এরপর ২০০০ সালে এক আদেশের মাধ্যমে তাকে ১৯৬৯ সাল থেকেই নিয়মিত করে দপ্তরাদেশ দেওয়া হয়। পরে ওই বছরই (২০০০ সাল) তাকে চাকরি থেকে পূর্ণ অবসর প্রদান করা হয়। কিন্তু অবসর প্রদানের আগে তাকে ১৯৯৮ সালে নিয়মিত পদে আত্মীকরণ দেখিয়ে চাকরির মেয়াদ এক বছর চার মাস দশ দিন হিসাব করে পেনশনের পরিবর্তে গ্র্যাচুইটি হিসেবে এক লাখ ৬৬ হাজার ৭২০ টাকা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় পেনশনের পরিবর্তে গ্র্যাচুইটি প্রদানের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০০৭ সালে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্প ও ২০০৯ সালে দুদকের দিনাজপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উদ্যোগে পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী গণশুনানিতে আবেদন করেন ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী মাইনউদ্দীন বলেন, একজন কর্মকর্তার ভুলের জন্য আমাকে পেনশন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ভুলের দায় তো আমার না। ৩৩ বছর চাকরি করে আমি ২০ বছর আগে অবসরে গেলেও এখন পর্যন্ত পেনশন সুবিধা না পেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। টাকার অভাবে বাইরে কোথাও বাড়িভাড়া নিয়ে থাকতে পারছি না। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণ সরকারি বাসায়ই পড়ে আছি। বর্তমানে আমার বয়স প্রায় ৮০ বছর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, আমি যেন মৃত্যুর আগে পেনশন সুবিধা পাই।’ পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। কাগজপত্র দেখে এবং খোঁজখবর নিয়ে জানাতে পারব। বর্তমানে আমি স্টেশনের বাইরে আছি।’