ঠুনকো ঘটনায় দোকানির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ!

সম্প্রতি দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে নতুন আইন করেছে সরকার। আর একে সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন এক নারী! মোবাইল ফোন পাল্টে না দেওয়ায় এক দোকানির বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ওই দোকানিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেই বেরিয়ে আসে ওই নারী মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। পরে এজন্য ওই নারী দুঃখও প্রকাশ করেন। তবে মোতালেব প্লাজার ওই দোকানি বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, সাভারের নবীনগরে একটি দোকান কেনাকে কেন্দ্র করে এক বন্ধুর সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। সে-ই পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেবেনও বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ফেইসবুকে গত মঙ্গলবাই একটি স্ট্যাটাস দেন ডিএমপির রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম। তিনি লেখেন, ‘আজ সন্ধ্যায় হন্তদন্ত হয়ে একজন মহিলা এলেন শাহবাগ থানায়, বললেন যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। সাথে সাথে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমাকে জানালে দ্রুত থানায় যাই। সাথে সাথে মহিলাকে সাথে দিয়েই একটা টিম পাঠাই মোতালেব প্লাজায় ধর্ষককে ধরার জন্য, কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই ধর্ষককে। মহিলার অভিযোগ ছিল যে তিনি মোবাইল কিনতে মোতালেব প্লাজায় গিয়েছিলেন, উনি ব্লু কালারের মোবাইল চেয়েছিলেন কিন্তু দোকানদার তাকে গ্রিন কালারের মোবাইল দিয়েছেন। রাস্তা থেকে মহিলা প্যাকেট খুলে বিরক্ত হয়ে দোকানদারকে ফোন করেন এটা পরিবর্তন করে ব্লু কালার দেওয়ার জন্য, তখন দোকানদার কৌশলে তাকে (মহিলাকে) তার বাসায় নিয়ে যান, মোবাইলের গুদামে নিয়ে যাচ্ছেন বলে। সেখানে নিয়ে মোবাইল পরিবর্তন করার কথা বলে, ওখানেই নির্জন পরিবেশে জোর করে মহিলাকে ধর্ষণ করেন দোকানি।’

এসএম শামীম আরও বলেন, ‘ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। পরবর্তীতে কথা বললাম দোকানির (ধর্ষক) সাথে এ বিষয়ে, মহিলার সাথে কথোপকথনের মোবাইল রেকর্ডিং শুনালাম তার মোবাইল থেকে, মোতালেব প্লাজার সিসি ক্যামেরা চেক করলাম, মহিলা একটা হোটেলে বসেছিল সেই হোটেল কর্র্তৃপক্ষের সাথে, দুঃখের বিষয় হচ্ছে সব শুনে এবং চেক করে মহিলার অভিযোগ মিথ্যা মনে হতে লাগল। মহিলার লোকেশন, টাইমিং, ফোনকল, রেকর্ডিং কোনো কিছুই মিলছে না। তখন মহিলাকে সব কিছু দেখিয়ে বললাম, আপা আপনি যেভাবে বলছেন সেভাবে তো মিলছে না কোনো কিছুই, আপনি নিজেই দেখেন। আর বললাম যে আমরা আপনার মেডিকেল টেস্ট করাব আসলেই আপনি ধর্ষিত কি না। মুহূর্তের মধ্যে মহিলা বললো, স্যার আমাকে মাফ করে দেন, আমি মিথ্যা বলেছি, আমাকে কেউ কোনো প্রকার ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করেনি। বললাম তাহলে কেন মামলা দিতে এসেছেন, তখন উনি বললেন শখ করে ১৪,৫০০ টাকা দিয়ে মোবাইল কিনেছি, সাভার থেকে কষ্ট করে এসেছি। আমাকে ব্লু কালারের কথা বলে গ্রিন কালার কেন দিল, এতে আমার প্রচণ্ড রাগ হয়েছে। পরে উনাকে ফোন দিয়ে পরিবর্তনের কথা বললে দোকানি আমাকে এটাই ভালো মোবাইল বলে ফোন রেখে দিয়েছেন, তখন মেজাজ আরও খারাপ হয়েছে, কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা থানায় এসেছি মামলা দিতে, যেহেতু ধর্ষণের শাস্তি বেশি তাই মিথ্যা মিথ্যা গল্প বানিয়ে ধর্ষণের কথা বলেছি। দোকানির অপরাধ ব্লুর জায়গায় গ্রিন দেওয়া আর হয়ে গেলেন ধর্ষক। এরকম সুযোগ দয়া করে কেউ নিয়ে মায়ের জাতির অপমান করার চেষ্টা করবেন না।’ যোগাযোগ করা হলে এসএম শামীম দেশ রূপান্তরকে স্ট্যাটাস দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারী নারী ফোনে গতকাল বুধবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে কোনো ঘটনা (ধর্ষণ) ঘটেনি। একটি মোবাইল ফোনের কালার নিয়ে সমস্যা হয়। সে ফোনটি পরিবর্তন করে দিতে চায়নি। এজন্য ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছিলাম। পরে আমিই বলেছি অভিযোগ সত্য না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না। মনমানসিকতা অন্যরকম হয়ে গেছিল। আমি ওইভাবে বুঝে উঠতে পারিনি। আমি চাচ্ছি না কারও ক্ষতি করি, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক বা আমার কোনো ক্ষতি হোক।’

এ প্রসঙ্গে ওই দোকানি বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এমন করেছে। সাভারের নবীনগরে একটি দোকান কেনা নিয়ে আমার ঝামেলা চলছে। যার সঙ্গে ঝামেলা সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’