ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও না জানানোর দায়ে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। গতকাল সেই সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। আজ থেকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারবেন তিনি।
আইসিসি নিষেধাজ্ঞায় যে এক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন সাকিব সেই সময়ে মাত্র চারটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে আর সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যদিও পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী ৩৬-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কথা ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে খেলা বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এই হিসাব ধরলে নিষেধাজ্ঞায় তেমন বেশি ম্যাচ খেলা থেকে বঞ্চিত হননি সাকিব। তবে মানসিকভাবে তিনি যে বড় ক্ষতির ভেতর দিয়ে গেছেন তা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ‘আমার মতো ভুল যেন আর কেউ না করে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ। এরপরেই আসলে বাকি কাজগুলো কীভাবে কী হবে সেটার একটা রূপরেখা তৈরি হবে। বিসিবির সঙ্গে কথা বলেই করা হবে এবং সুন্দর করেই করা হবে।’
সাকিবের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার গ্রামের বাড়ি মাগুরায় আনন্দ মিছিল হয়েছে। ভক্তরা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
এক বছরের নিষেধাজ্ঞা থেকে সাকিবের মুক্তিতে খুশি দলীয় সতীর্থরাও। মাহমুদউল্লাহ যেমন বলেছেন, ‘আমাদের ছেলে ঘরে ফিরছে বলে খুশি আমরা। সাকিব অনেক বছর ধরে বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়। ড্রেসিং রুমে তার জন্য আমরা সবাই অধীর অপেক্ষা করছি।’
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শ্রীলঙ্কা সফরকে সামনে রেখে কিছু দিনের জন্য বিকেএসপিতে নিজ উদ্যোগে অনুশীলন করেছিলেন সাকিব। কিন্তু লঙ্কা সফরটি শেষ পর্যন্ত না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ফিরে যান তিনি। বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ১৫ নভেম্বর থেকে যে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজন হতে চলেছে তাতে অংশ নেবেন সাকিব। ২০০৭ সালে অভিষেকের পর থেকে দেশের হয়ে ৫৬ টেস্ট, ২০৬ ওয়ানডে এবং ৭৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এই অলরাউন্ডার।