লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে, মসজিদে আসরের নামাজের পর ওই ব্যক্তি ধর্ম অবমাননা করেছেন, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, তিনি শুনেছেন বুড়িমারী কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে মোটরসাইকেল নিয়ে দুজন ব্যক্তি আসরের নামাজ পড়তে আসেন। নামাজ শেষে কোনো কারণে তাদের সঙ্গে মসজিদে যারা ছিল, তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওনারা নাকি একটা শেলফে পা দিয়েছিলেন। সেটা নিয়ে কেউ বলছেন, কোরআন শরীফের ওপর পা পড়েছে এরকম একটা গুজব হয়তো ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তখন অনেক লোকজন জড়ো হয়ে যায়। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার তাকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটা রুমের মধ্যে আটকে রাখে। পরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ আসতে আসতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অনেক লোক জড়ো হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রিল ভেঙে বিভিন্ন দিক দিয়ে লোকজন ঢোকে।
পুলিশ সুপার বলেন, দুজন ছিল। ওসি একজনকে সরিয়ে নিয়ে যান। আরেকজনকে তারা ওইখানে পিটিয়ে মেরেছে। লাশটা তারা নিয়ে যায় এবং আগুনে পুড়িয়ে দেয়। তিনি জানান, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম আবু ইউনুস মো. শহিদুন্নবী বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তৌহিদুন্নবী নামের এক ব্যক্তি নিজেকে শহিদুন্নবীর ভাই পরিচয় দিয়ে বিবিসিকে বলেন, তার ভাইকে পিটিয়ে হত্যার খবর তারা প্রথমে লোকমুখে শুনেছেন। তারা বিস্তারিত জানতে পারেননি। তবে ঘটনাটি তাদের হতবাক করেছে।
তিনি জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি রংপুরে, কিন্তু তার ভাই কীভাবে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে গিয়েছে, সেটা তাদের কাছে বোধগম্য নয়।
তৌহিদুন্নবী বলেন, শহিদুন্নবী রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। এক বছর আগে চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। কারও সঙ্গে কোনো রকম ঝামেলা ছিল না।
পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত সেখানকার পরিস্থিতি থমথমে থাকার কথা জানিয়েছেন।