নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। ৩য় বারের মত বিয়ের পিঁড়িতে বসায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ঘটনাটি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরেও একজন ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই কীভাবে বাল্য বিয়ে করতে পারেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের দোলন গ্রামের প্রতিবন্ধী বাচ্চু মিয়ার ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া বকশীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী বন্নি আক্তারের উপর নজর পড়ে বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব সরকারের। এরপর ওই ছাত্রীকে নানাভাবে ফুসলিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং হতদরিদ্র মেয়েটির পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখাতে থাকেন। গত রবিবার রাতে মেয়েটির পরিবারের লোকজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বিয়ে দেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব সরকারের এক স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে এর আগেও তিনি আরও একটি বিয়ে করলেও সেটি স্থায়ী হয়নি।
চেয়ারম্যানের ৩য় বিয়ের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। এদিকে, একজন নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে বাল্যবিয়ে করলেও প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বকশীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুজ্জামান বলেন, ওই ছাত্রী আমার স্কুলের মানবিক বিভাগের ৯ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, যেহেতু বাল্য বিবাহ হয়ে গেছে, সেখানে মোবাইল কোর্ট করার সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।