আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনে জ্বালানি তেল

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন করে লকডাউন শুরু হওয়ায় গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ¦ালানি তেলের দাম ৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। করোনা সংক্রমণ হারের ক্রমাগত বৃদ্ধি রোধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশ লকডাউন ঘোষণা করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, নতুন করে লকডাউন আরোপে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবই পড়ছে পণ্যটির দামে। এশিয়ায় ট্রেডিংয়ের একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট জ¦ালানি তেলের দাম ৩৫ ডলার ৭৪ সেন্টে নেমে যায়, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন। তবে পরে লন্ডন ট্রেডিংয়ে দাম বেড়ে দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৩৭ ডলার ৮৬ সেন্ট। চলতি বছরের ৯ মাসে ব্রেন্টের দাম কমেছে ৪৫ শতাংশ।

এর আগে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতনের কারণে গত ২০ এপ্রিল প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ঋণাত্মক ৩৭ ডলারের নিচে নেমে যায়। তবে রেকর্ড এই দরপতনের পরেই দাম বাড়তে থাকে। এতে রেকর্ড দরপতনের ধকল সামলে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ ডলারের আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এখন আবার দরপতনের মুখে পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজার।

ফ্রান্স, জার্মানি ও বেলজিয়াম এরই মধ্যে লকডাউনে ফিরে গেছে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। যুক্তরাজ্যে লকডাউন চলবে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। নেদারল্যান্ডসের বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএনজির কমোডিটিজ স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার ৬ শতাংশের বেশি আসে এই চার দেশ থেকে। তাই দেশগুলোয় লকডাউন ঘোষণার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সোমবারের জ্বালানি তেলের বাজারে।

বছরের শেষ প্রান্তিকেও (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে বাড়ছে আরেকটি অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা। জুলাই-সেপ্টেম্বরে এ অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এই হার ৪ শতাংশ কম।

লকডাউনের সঙ্গে ব্যবসায়ীরা শঙ্কায় রয়েছেন তেলের অতিরিক্ত মজুদ নিয়ে। তবে গত ১৯ অক্টোবর অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) বৈঠকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক ৭৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল কম উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত হয়।