নবম শ্রেণির বর এবং সপ্তম শ্রেণির কনে। তারা পালিয়ে বিয়ে করে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক এই কিশোরন্ডকিশোরীর বিয়েকে বৈধতা দিতে ডাকা হয় গ্রাম্য সালিশ। সালিশে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই বাল্যবিয়েকে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গত শুক্রবার এমনই ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের কদিমধল্যা গ্রামে।
জানা যায়, কদিমধল্যা গ্রামের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে (১৬) এবং পার্শ্ববর্তী আগধল্যা গ্রামের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে (১৪) দুজনই কদিমধল্যা ড. আয়শা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। একই প্রতিষ্ঠানে পড়া এবং স্কুলে যাওয়ান্ডআসার পথে নিয়মিত দেখা থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১১ অক্টোবর ওই দুই শিক্ষার্থী প্রেমের টানে পালিয়ে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে। তারা পালিয়ে যাওয়ার পর মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। বিয়ের পর বাড়ি ফিরলে সামাজিকভাবে উভয় পরিবার চাপের মধ্যে পড়ে। পরে গত শুক্রবার কদিমধল্যা গ্রামের আতোয়ার রহমানের বাড়িতে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানে আতোয়ার রহমান ছাড়াও জামুর্কী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন, গ্রাম্য মাতব্বর আবুল কাশেম, সাবেক ইউপি সদস্য তফছের আলী, কনের মামা ফজলু, শওকত, মোয়াজ্জেমসহ বরন্ডকনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সালিশে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য কনের পরিবারকে বরের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে বিয়েকে সামাজিক মর্যাদা দেওয়া হয়।
গত রবিবার ওই বর ও কনের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। বরের বোন এক স্কুলছাত্রী আলোচিত ওই বিয়ের কথা স্বীকার করে। তবে নবদম্পতি কোথায় আছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে।
বাল্যবিয়ে ও সালিশের বিষয়ে জানতে চাইলে কনের মা মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেয়ে পালিয়ে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছে। ফিরে আসায় গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মেয়েকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
গ্রাম্য মাতব্বর আতোয়ার রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বর ও কনে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছে। গ্রামে এক সালিশের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ মীমাংসার জন্য এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকা মেয়ের পরিবারকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজল বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার পর মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে পাওয়া গেছে মর্মে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ৩ লাখ টাকায় বাল্যবিয়ের স্বীকৃতি সম্পর্কে আমি অবগত নই।’