গুজবে কান দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বর্বর প্রবণতা থেকে বিরত থাকার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ধরনের সব বেআইনি কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে একজনকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরন্ডঅগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে গত রবিবার সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়। এরপর গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় একই ধরনের হুঁশিয়ারি এলো।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যেকোনো তথ্য ও সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ন্ডএ যোগাযোগের পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ‘সম্প্রতি দেশে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি সম্পূর্ণ গুজব সৃষ্ট অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে ও নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিপ্রায়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়সহ নানা বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টা করছে।’
দেশের সাধারণ মানুষকে শান্তিপ্রিয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘তারা যেকোনো প্রকার নিষ্ঠুরতা, সহিংসতা, বর্বরতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে। কোনো প্রকার গুজবে কান না দিতে এবং যেকোনো তথ্য ও সংবাদ যাচাই ব্যতীত বিশ্বাস না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। সেই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বর্বর প্রবণতা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। এ ধরনের সকল বেআইনি কর্মকান্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’