ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মায়ের কাছ থেকে তার নাবালক শিশুকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার ইসরাত জাহানের সঙ্গে ঢাকার সাইফ উদ্দিন সিদ্দিকের বিয়ের পর ২০১৪ সালে আহিয়ান সিদ্দিক নামে তাদের একটি সন্তান হয়। ২০১৯ সালে ইসরাত ও সাইফ উদ্দিনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, তবে শিশুকে নিজের কাছেই রাখেন সাইফ। সেই বছরই সন্তানের অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য শিশুর মা ইসরাত জাহান আখাউড়া সহকারী জজ ও পরিবার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ধার্য তারিখে মাকে দেখানোর জন্য শিশুসন্তানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে শিশুর বাবা সাইফ উদ্দিন সিদ্দিক গত ১৮ অক্টোবর জেলা জজ আদালতে একটি সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গতকাল নাবালক শিশু ও তার বাবা সাইফ উদ্দিন সিদ্দিককে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন।
আরও জানা গেছে, গতকাল আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নাবালক শিশু আহিয়ানকে তিন ঘণ্টার জন্য মা ইসরাতের কাছে থাকার নির্দেশ দেন জেলা জজ। এজলাস থেকে শিশু আহিয়ানকে কোলে নিয়ে মা ইসরাত জাহান আদালত ভবনের সামনে যান। সে সময় শিশুর বাবা সাইফ উদ্দিন শিশু আহিয়ানকে কোলে নিয়ে স্বজন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সেখানে উপস্থিত আইনজীবীসহ অন্যান্য লোকজন প্রতিবাদ করলে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তিন ঘণ্টা মায়ের কাছে থাকার পর আহিয়ানকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হন বাবা সাইফ উদ্দিন।
এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ আলম ও শরিফুল আলম জানান, গোয়েন্দা পুলিশ জোরপূর্বক শিশুটিকে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা কিসের ভিত্তিতে এখানে এসে এই কাজটি করেছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। আদালতের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরায় ও শিশুর মামার মুঠোফোনে ডিবি পুলিশের এই কর্মকান্ডের রেকর্ড রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. ইকবাল হোসেন জানান, অভিযোগ সত্য নয়। আমরা এমনিতেই আদালত চত্বরে গিয়েছিলাম। ওই কাজে আমরা জড়িত হইনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন খাঁনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।