নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে না পারলেই পাড় ভাঙে। এজন্য নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছোট ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোগ না নিয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (বড় পরিসরে খনন) করতে হবে। নদীতে চর জাগার কারণে যেসব নদীপথ পরিবর্তন হয় বা ভাঙে এগুলো চিহ্নিত করে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। পুরো বছর নিয়মিত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা একনেক সভায় অংশ নেন। সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, নদীর প্রবাহ বা পানি ব্যবস্থাপনার ওপর প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। একইভাবে বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার জন্য জোন তৈরি করতে হবে। যাতে পানির স্তর, অন্যান্য ব্যবস্থাপনা, পানির পরিমাণ বজায় থাকে এ ব্যাপারে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নির্দেশনা দিয়েছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলাধীন সিংড়াবাড়ী, পাটাগ্রাম ও বাঐখোলা এলাকা সংরক্ষণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। একই নদীতে এরকম ভাঙন রোধে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রজেক্ট বেজড অ্যাপ্রোচ থেকে সরে এসে আমাদের ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে হবে অ্যাজ মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং। সেখানে যেতে হলে পানিসম্পদ সচিব ও মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি, তাতে আমাদের মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের জন্য নিজস্ব ড্রেজার দরকার। অর্থাৎ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ড্রেজার দরকার। একটা ড্রেজারের দাম প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা। আমাদের সচল ড্রেজার আছে মাত্র পাঁচ-ছয়টা। তারা ভাড়া করে নিয়ে আসে। তাদের ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ড্রেজারের একটা প্রকল্প দিয়েছে কিছুদিন আগে। এ প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকায় তারা ড্রেজার কিনবে মাত্র ৩২টা। সুতরাং সব সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কিন্তু বড় নদীগুলোতে আমরা স্টাডির মাধ্যমে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ে যাব। সে ক্ষেত্রে নদীর ডান ও বাম তীর সংরক্ষণের প্রকল্প যে ঘন ঘন আসছে, হয়তো তখন একই নদীতে এরকম এত প্রকল্প আসবে না।
একনেকে ৪ প্রকল্প অনুমোদন : কক্সবাজারে শুঁটকি শিল্প স্থাপনসহ চার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬০৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ১৮২ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য অনেক জেলে পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাদের যে জায়গায় পুনর্বাসন করা হয়েছে, সেখানে এই শুঁটকি শিল্প স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে করে তারা এখানে কাজ করে বেশি পরিমাণে আয় করতে পারেন।’
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন হতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলাধীন সিংড়াবাড়ী, পাটাগ্রাম ও বাঐখোলা এলাকা সংরক্ষণ প্রকল্প, কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্প, পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল জেলা মহাসড়কে এক স্তর নিচু দিয়ে উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং আমিনবাজার-মাওয়া-মোংলা ৪০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্প।