মুজিববর্ষে গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরি

জানুয়ারিতেই ৬০ হাজার ঘরের কাজ শেষ করার নির্দেশ

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের এক লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীনকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। যার কাজ এখন চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রথম পর্যায়ের ৫৯ হাজার ৮০৩টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের আরও ১৫টি জেলায় ৩ হাজার ৬৫টি ঘর নির্মাণের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে উপকারভোগী নির্বাচন ও গৃহনির্মাণ কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের ভিডিও কনফারেন্সে সভা হয়। ওই সভার কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গৃহনির্মাণকাজ বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে জানিয়ে সভায় ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘ঘর নির্মাণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। ভূমিহীন ও গৃহহীন নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মানসম্মতভাবে গৃহনির্মাণ সম্পন্ন করতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা সহযোগিতা প্রদান করবেন। জাতীয় রাজস্ব হতে এ গৃহনির্মাণ কার্যক্রমের জন্য মূসক ও আয়কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি গৃহনির্মাণে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সিনিয়র সচিব ও সচিবরা নিজস্ব অর্থায়নে নিজ নিজ এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য দুটি করে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে এক লাখ ঘর নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা ঘরগুলো মডেল হিসেবে দেখা হবে।’

সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, তিন আলাদা আলাদা প্রকল্পের আওতায় ৫৯ হাজার ৮০৩টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২৪ হাজার ৫৩৮টি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ কর্মসূচির আওতায় ২০ হাজার ৩৭৩টি ঘরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে ১৪ হাজার ৮৯২টি ঘরের অনুকূলে ২৫৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সভার কার্যপত্র থেকে আরও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ৫৯ হাজার ৮০৩টি ঘরের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করতে হবে। তবে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়েও তদারকি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত ঘরের নির্মাণকাজ তদারকি করতে হবে। গৃহনির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নীতিমালা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের।

এদিকে এক লাখ ঘর নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫ জেলার ১১০টি উপজেলায় ৩ হাজার ৬৫টি পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার নির্বাচন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এজন্য ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৯ অক্টোবর ভূমি মন্ত্রণালয়ে এক সভা হয়। ওই সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ শুরু করবেন। কোনো অবস্থাতেই নীতিমালাবহির্ভূত কাউকে বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সচিবদের নিজস্ব অর্থায়নে নিজ জেলায় দুটি করে ঘর নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জমি আছে কিন্তু গৃহ নেই এমন দুটি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। সদ্য বিদায় নেওয়া সচিবসহ ৮১ জন নিজ নিজ এলাকায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন, যা ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণের এ কর্মসূচিটি খুবই ভালো উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে বিত্তবানদের আরও এগিয়ে আসা উচিত।’