কুষ্টিয়ায় ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ

হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে লাশ হলো পরিবারের ৪ জন

মানসিক সমস্যার কারণে পাবনা মানসিক হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন নড়াইলের লোহাগড়ার নাদিয়া আরবি। চিকিৎসা শেষে গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর স্বামী মফিজ উদ্দীন অ্যাম্বুলেন্সে করে নাদিয়াকে নিয়ে রওনা হন বাড়ির উদ্দেশে। তাদের সঙ্গে ছিল ছেলে ইফাদসহ কয়েকজন স্বজন। পথে বেলা ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরে ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ গেছে নাদিয়া দম্পতিসহ একই পরিবারের চারজনের। নিহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু সুলতানও। এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নাদিয়ার ভাই ইনসান শেখ। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাঙামাটিতে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় মাইক্রোবাসে বাসের ধাক্কায় ৮ জন আহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার মশাঘুনি গ্রামের বাসিন্দা মোটরগ্যারেজ মিস্ত্রি মো. মফিজ উদ্দিন (৪৩), তার স্ত্রী নাদিয়া আরবী (৩৮), ছেলে ইফাদ হাওলাদার (১৬), নাদিয়ার ভাই যশোরের বাসিন্দা আলিম শেখ (৩৪) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক লোহাগড়ার দাসের ডাঙ্গা গ্রামের মো. টিপু সুলতান (৩৮)।

পুলিশ ও হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত আরবি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মাসখানেক আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরে সামনে থাকা একটি গাড়ি অতিক্রমের হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে লাশ এক পরিবারের ৪ জনচেষ্টা করে অ্যাম্বুলেন্সটি। এ সময় ডান দিক থেকে ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়াগামী বিএডিসির একটি বীজবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের পাঁচজন মারা যান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কুষ্টিয়া সদর থানার পুলিশ সদস্যরা ছুটে যায়। তারা নিহতদের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়। এছাড়া আহত ইনসান শেখকে (৩৫) একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইনসানের অস্ত্রোপচার করা হয়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নোয়া মাইক্রোবাসের কাঠামো পরিবর্তন করে তৈরি করা অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে।

ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে রাস্তায় গিয়ে তারা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর কয়েকজনকে রক্তে ভেজা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের মধ্যে একজন কাতরাচ্ছিলেন। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে নেতৃত্ব দেওয়া কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ আলী সাজ্জাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়াগামী বিএডিসির একটি বীজবাহী ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শেষে মৃতদের লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।’

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের সহকারী সুপার আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটি ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিএডিসির ট্রাকসহ অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালককে পাওয়া যায়নি।’

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় লোহাগড়া পৌরসভার মশাঘুনি গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে সুনসান নীরবতা। ঘরে তালা ঝোলানো। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর শোনার পর এলাকার বাসিন্দারাও শোকাহত।

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ৮ যাত্রী আহত : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবাস আরোহী ৮ যাত্রী আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসেম খান রোডের ওই দুর্ঘটনায় আহত ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন মাইক্রোবাসচালক হামদু (৫০) এবং আরোহী শিউলি আক্তার (২৭) ও তার স্বামী নাসির উদ্দিন (৩০), ইসমাইল হোসেন (১২) ও ফয়সাল আহমেদ (১৫)।

মাইক্রোবাসটির চালক হামদু জানান, হাসেম খান রোডে সামনে থাকা একটি বাস ব্রেক করে। এরপর তিনিও তার গাড়িটি ব্রেক করলে পিছন থেকে আরেকটি বাস তাদের গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটির সামনের বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

যাত্রী চম্পা আক্তার বলেন, মালিবাগ আবুল হোটেল এলাকায় বাসা তার। দুই সপ্তাহ আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। তার বোন জামাই নাসির উদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী ছিলেন। ১০ মাস আগে তিনি দেশে আসেন। চলতি মাসের ৮ তারিখে তার আবার ফিরে যাওয়ার ফ্লাইট। সেজন্য নাসিরের স্ত্রীসহ সব মিলিয়ে ১৪ জন আত্মীয়স্বজন নিয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঢাকায় নিজের বাসায় ফিরছিলেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদশর্ক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, আহত পাঁচজনের মধ্যে শিউলি ও নাসিরের পা ভেঙে গেছে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেওয়া বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে।