ছোট শিশুদের মধ্যে প্রায়ই কানে ব্যথা দেখা যায়। কানে ব্যথা হলে বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করে, কান্নাকাটি করতে থাকে এবং খিটখিটে আচরণ করে। অধিকাংশ শিশুরই মধ্যকর্ণের সংক্রমণের কারণে কানে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে কানে ব্যথা হতে পারে।
কারণ
কোনো কিছু কানে ঢুকে গেলে : ছোট শিশুরা খেলতে খেলতে কানে কোনো কিছু ঢুকিয়ে ফেলতে পারে। এ থেকে কানে ব্যথা হয়।
টনসিলের সংক্রমণ হলে কানে ব্যথা হতে পারে।
সর্দি ও কাশির কারণে : সর্দি-কাশির কারণে অনেক সময় কান এবং নাকের সংযোগ টিউব ব্লক হলে কানের পর্দার ভেতরের দিকে তরল জমে ফুলে ওঠে। তখন কানে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।
সিরুমেন জমে গিয়ে বহিঃকর্ণ বা এক্সটার্নাল ইয়ার ক্যানেল বন্ধ হয়ে গেলে কানে ব্যথা হতে পারে।
কানের পর্দা ফেটে গেলে বা ছিদ্র হয়ে গেলে ব্যথা হতে পারে।
কানে ফোঁড়া হয়ে থাকলে ব্যথা হতে পারে।
দাঁতে ব্যথা : একই স্নায়ুর কারণে দাঁতে ব্যথা হলে কানেও ব্যথা অনুভূত গতে পারে।
যেভাবে বুঝবেন শিশুর কানে ব্যথা
শিশু কান্নাকাটি করবে, অস্থির করবে। ছোট বাচ্চারা কান ধরে টানাটানি বা বারবার কানে আঙুল ঢোকাতে চাইবে। রাতে ঘুমাতে চাইবে না। অনেক সময় জ্বর আসতে পারে। শিশু খাওয়ায় অনীহা প্রকাশ করবে। অনেক সময় যেসব শিশু হাঁটতে পারে, তাদের হাঁটার ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
প্রতিকার এবং প্রতিরোধ
কানের ব্যথাকে অবহেলা না করে এর কারণ বের করা এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। শিশু ব্যথায় অস্থির হলে, ঘাড় শক্ত হলে, ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়লে তৎক্ষণাৎ জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কানে কোনো কিছু ঢুকিয়ে ফেললে নিজেরা তা বের করার চেষ্টা করা যাবে না। এতে আরও ক্ষতি হতে পারে।
কটন বাড বা কাঠি ঢুকিয়ে কান পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে সিরুমেন বা কানের খৈল আরও ভেতরে চলে যেতে পারে এবং সংক্রমণ হতে পারে।
ঠান্ডা থেকে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
খেলতে গিয়ে বাচ্চা যেন কানে কোনো কিছু ঢুকিয়ে না ফেলে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ধরনের ক্ষুদ্র খেলনা যেমন মার্বেল, ছোট আকারের কড়ি বা কোনো কিছুর বীজ শিশুকে দেওয়া যাবে না।
শিশুকে গোসল করানোর সময় যেন কোনোভাবে কানে পানি না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
শিশুর কানের কাছে খুব জোরে শব্দ করা যাবে না, কানের ওপর কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করা যাবে না। শিশুর কানে ব্যথা বা কানের সংক্রমণ কোনো অবহেলার বিষয় নয়। কখনো কখনো কানের সংক্রমণ থেকে কানের পেছনে মাথার হাড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে ম্যাস্টোডাইটিস হতে পারে। আবার মেনিনজাইটিসও হতে পারে। কখনো কখনো শ্রবণ ও বাক্শক্তির ক্ষতিও হতে পারে। কাজেই, বাচ্চাদের কানের সংক্রমণের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।