১৪ মাসে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আগামী ১৪ মাস তথা ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে। রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এখানে আমার কোনো অবস্থান নেই।

গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা (ভার্চুয়াল) শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান। সভায় ৫ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আট ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন পায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৭ আগস্ট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।’

রিজার্ভের অর্থ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের যদি ভালো এবং সরকারের স্পন্সর প্রজেক্ট থাকে সে ধরনের প্রজেক্টে যদি অর্থায়ন করি, একদিকে আমাদের ঋণ বাড়ল না আরেকদিকে আমাদের টাকাটা নিজের ঘরেই রয়ে গেল এবং আমরা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারলাম।’ তিনি বলেন, ‘এখন নভেম্বর মাস এরপর ডিসেম্বর মাস, এর পরবর্তী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ১৪ মাসের ভেতরে বাংলাদেশের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ হবে ইনশাআল্লাহ ৫০ বিলিয়ন ডলার।’

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এখানে কোনো অবস্থান নেই, কারণ আমি টাকা নেবও না, ব্যয়ও করব না। এটি পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমার্শিয়ালি বেনিফিট হই সেভাবে কাজে লাগানো হবে।’

৮ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন : ৫ হাজার ৬৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের চারটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি এবং জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি করে প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় ক্রয় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল অনুমোদিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। মোট অর্থায়নের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ব্যয় হবে ২২৪ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৪৪০ কোটি ৪০ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কাফকো, বাংলাদেশ থেকে সপ্তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এজন্য ব্যয় হবে ৬৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬২ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সৌদি আরব থেকে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করবে। এজন্য ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা। কমিটি এ প্রস্তাবটিও অনুমোদন দিয়েছে।

জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) ২০২১ পঞ্জিকাবর্ষে প্রক্রিয়াকরণের জন্য ১৩ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ¦ালানি তেল (ক্রুড অয়েল) এডিএনওসি, আবুধাবি এবং সৌদি এআরএএমসিও, সৌদি আরব থেকে ৫ হাজার ২০৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন বিআরটিএ’র আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদে ঢাকা মেট্রো-১ অফিসে ১২ লেনবিশিষ্ট ভিআইসি (ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার) স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, হার্ডওয়্যার ইত্যাদি সরবরাহ, স্থাপন, পরিচালনা, মেইনটেন্যান্স ও মেয়াদ শেষে হস্তান্তরের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেডকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এজন্য ব্যয় হবে ১০৫ কোটি ২২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৬ টাকা।

এছাড়াও ‘বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য গুলশান এলাকায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের ডব্লিউ-১ প্যাকেজের আওতায় পূর্ত কাজ সম্পন্ন করতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হোসেন কনস্ট্রাকশন (প্রাইভেট) লিমিটেড এবং আমানত এন্টারপ্রাইজকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। প্যাকেজের আওতায় দুটি বেজমেন্টসহ ১৪ তলা ভবন, চারটি ইউনিটের প্রতিটিতে ২২০০ বর্গফুট এবং দুটি ফ্লোরে দুটি ডুপ্লেক্সসহ ৪৮টি ফ্ল্যাট অভ্যন্তরীণ রাস্তা/পেভমেন্ট, গেটসহ সীমানা প্রাচীর, কম্পাউন্ড ড্রেন এবং গার্ড শেড নির্মাণ করা হবে।