পররাষ্ট্রনীতি কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনে যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন বাংলাদেশের কোনো সমস্যা নেই। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের কার্যলায়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মোমেন বলেন, ‘যে কেউ ক্ষমতায় আসুন না কেন, আমাদের কোনো সমস্যা নেই। নির্বাচনে কে জিতবে তা এত তাড়াতাড়ি বলা যাচ্ছে না। এটি প্রযুক্তিগতভাবে ভিন্ন ধরনের একটি নির্বাচন। তারা প্রতিটি রাজ্যের মর্যাদা ধরে রেখে খুব সুন্দরভাবে ব্যবস্থাটি তৈরি করেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি খুব ভালো করছে এবং বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিকভাবে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমরা নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছি। কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের শত্রুতা নেই। আমরা সবার মঙ্গল কামনা করি।’ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ খুব ভালোভাবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।’ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সর্বত্র স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। ‘আমরা দৃঢ় স্থিতিশীলতা চাই।’ করোনা মহামারী শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনসহ অনেক দেশ নিজ নিজ দেশে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্বাচনের ফলাফলের কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা না থাকায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ধারাবাহিকতার ব্যাপারে আশাবাদী।
ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না : এদিকে সম্প্রতি ফ্রান্সে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে ঘিরে দেশে চলমান ফ্রান্সবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। আপনারা দেখেছেন যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও বলেছেন, এ বিষয় সম্পর্কে তার অবস্থান অনেক নমনীয় হয়ে এসেছে।’
সম্প্রতি ফ্রান্সে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মন্তব্যের পর ঢাকার ফ্রান্স দূতাবাস বন্ধসহ দেশটির পণ্য দেশে নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন দাবি তুলেছে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, ধর্ম ও ব্যবসা এক করা ঠিক হবে না।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমরা বলেছি তাদের দেশে যারা মারা গেছে, তাদের জন্য আমরা দুঃখিত। আমরা বলেছি, আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি এবং প্রত্যেকের স্পর্শকাতর বিষয়ে সাবধান হওয়া উচিত।’ উসকানিমূলক কোনো কিছু করা ঠিক হবে না বলেও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিতে লেখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সকালে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘মাইজভা-ারী সাহেব এসেছিলেন। তাকে বলেছি, আমরা ফ্রান্স সরকারকে জানিয়েছি। তারা আমাদের সংসদে একটি রেজল্যুশন নেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি বলেছি, আপনি সংসদ সদস্য; আপনি বিষয়টি উত্থাপন করুন।’