রাঙ্গামাটির বিহারে বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব। বিহারে বিহারে আনন্দ আয়োজন ও শ্রদ্ধা-ভক্তিতে পালিত হচ্ছে উৎসব। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাঙ্গামাটি নানিয়ারচরের বুড়িঘাট ইউনিয়নের গর্জনতলী পাড়া শাক্যমনি বৌদ্ধবিহারে ১১তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকালে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পঞ্চশীলা প্রার্থনা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান, কল্পতরু দান ও আকাশ প্রদীপ উৎসর্গসহ নানাবিধ দান অনুষ্ঠিত হয়।পরে দুপুরে ঢোলের তালে নেচে নেচে উৎসবমুখর পরিবেশে কঠিন চীবর ও কল্পতরুকে প্রদক্ষিণ করে আনন্দ শোভাযাত্রা করেন পুণ্যার্থীরা। এরপর মঞ্চে আসা বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে গর্জনতলী পাড়া শাক্যমনি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ ধর্মপাল ভিক্ষুকে বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠ দান কঠিন চীবর দেন চিরণ জিৎ চাকমা। বিকেলে দেশনা ও সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানোর মাধ্যমে শেষ হয় কঠিন চীবর দানোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিরাশা চাকমা ও শোভন চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নতুন কৃষ্ণ চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক বীর চন্দ্র চাকমা। বিশেষ প্রার্থনা পাঠ করেন ঋতু চাকমা। পঞ্চশীল প্রার্থনা পাঠ করেন অমর বিকাশ চাকমা।

অনুষ্ঠানে ধর্মদেশনা দেন ফুরমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বন ধ্যান কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ ভৃগু মহাস্থবির, রত্নংকুর বনবিহারের বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ বিশুদ্ধানন্ধ মহাস্থবির, চিত্তারাম বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ মৈত্রী লংকার, মহাস্থবির ও গর্জনতলী পাড়া শাক্যমনি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত  শ্রীমৎ ধর্মপাল ভিক্ষু প্রমুখ।

ধর্মদেশনায় বৌদ্ধভিক্ষুরা বলেছেন, মানবজীবনে পুণ্যলাভ করা যায় দানের মাধ্যমে। দান করলে পরে তার অধিক ধন-সম্পদ লাভ করা যায়। গৃহী জীবনে যেমন পঞ্চশীলের কোনো বিকল্প নেই, ঠিক তেমনি জীবনে দানই হচ্ছে অন্যতম। যার কারণে ভগবান বুদ্ধের সময়কাল থেকে দানের শ্রেষ্ঠ দান হিসেবে বিবেচিত কঠিন চীবর দান।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা ও সুতা থেকে চীবর (কাপড়) তৈরি করে বুদ্ধের উদ্দেশে দান করার রীতিকে কঠিন চীবর দান হিসেবে বিবেচনা করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।