‘মৃত’ যুবকের জীবিত ফেরা: অব্যাহতি পেলেন ৬ আসামি

নারায়ণগঞ্জে মামুন নামে এক যুবককে ‘খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ’-এর অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে কারাবাস করা ছয় আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা এ মামলার বাদী ও সাক্ষীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর আবেদন করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন– মামুনের কথিত প্রেমিকা তসলিমা, তার বাবা রকমত আলী, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল, সাগর ও মামা সাত্তার মোল্লা।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রায় ছয় বছর পর চাঁদপুরের নিজ বাড়িতে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসেন ‘মৃত’ সেই মামুন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর মামুনকে আদালতে হাজির করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী। মামুনের জীবিত অবস্থায় ফিরে আসার ঘটনায় গত রবিবার মামলাটির বিভিন্ন সময়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা তিন কর্মকর্তাকে গতকাল সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেয় আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামুনের জীবিত অবস্থায় ফেরার কারণে মামলাটি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেহেতু আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে গত রবিবার মামলা থেকে নিরপরাধ মক্কেলদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করি। গতকাল সেই মামলাটি থেকে আমার ছয় মক্কেলকে অব্যাহতি প্রদান করেন বিচারক।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১০ মে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মামুন (২৮)। তখন কোন ডায়েরি কিংবা অভিযোগ করা হয়নি। ওই ঘটনায় মামুনকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ৯ মে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করেন তার বাবা আবুল কালাম। এতে আসামি করা হয় মামুনের কথিত প্রেমিকা তসলিমা, তার বাবা রকমত আলী, ভাই রফিক, সোহেল, খালাতো ভাই সাগর ও মামা সাত্তার মোল্লাকে। পরে পুলিশের আবেদনে চাক্ষুস সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মাকসুদা বেগম নামে এক নারী। ওই মামলায় তসলিমা ও তার ভাই রফিক দেড় বছর কারাবাস করেন। অপর আসামি রকমত আলী, সাগর ও সাত্তার দেড় থেকে তিন মাস কারাগারে ছিলেন।