কিশোরীকে ধর্ষণ ইউপি সদস্যের

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। উপজেলার খঞ্জনপুর এলাকার এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে আবদুল কুদ্দুস (৫৩) নামে ওই ইউপি সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। অভিযুক্ত কুদ্দুস স্থানীয় দোগাছি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও রাঘপুর গ্রামের প্রয়াত আইয়ুব আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল ইউপি সদস্য কুদ্দুস। পাসপোর্ট তৈরি করার কথা বলে গত বুধবার ওই কিশোরীকে ডেকে এনে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং আটকে রাখে। একপর্যায়ে কিশোরীর স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সন্ধ্যায় জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পে অভিযোগ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে খঞ্জনপুর এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে র‌্যাব। এরপর সদর উপজেলার চকশ্যাম এলাকা থেকে কুদ্দুসকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অল্প বয়সী কিশোরীদের অশ্লীল ছবিসংবলিত একটি মোবাইল ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১০-১২ বছর ধরে সেলাই প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন বয়সের নারীকে যৌন হয়রানি করে আসছে কুদ্দুস। এ ছাড়া জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী পাচারসহ অবৈধভাবে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে কুদ্দুস। স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি হওয়ায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলে না।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম মোহাইমেনুর রশিদ জানান, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে মো. সুমন (৩০) ও সুমন মিয়া (২৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া ফেনীর দাগনভূঞায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করিম মহাজন (৫০) ও বেলাল হোসেন (৪৮) নামে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জের ঘটনায় মামলার এজাহারে বলা হয়, গত মঙ্গলবার বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার পথে স্থানীয় খালইষ্ট এলাকায় সুমন মিয়া ও মো. সুমন ওই কিশোরীর গতিরোধ করে। এরপর একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ ও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তারা। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ওই কিশোরী বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করে। আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ফেনীর ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, করিম মহাজন মাতুভূঞা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেলাল হোসেন ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের শরীফপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। স্বজনরা আরও জানান, পূর্বপরিচয় সূত্রে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে তিন বছর যাবৎ ধর্ষণ করে আসছে করিম মহাজন। অভিযুক্ত বেলাল হোসেনও তিন মাস ধরে ওই কিশোরীকে বিভিন্ন কৌশলে ধর্ষণ করে। দাগনভূঞা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, গতকাল আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।