বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নাকি একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তার সারা দিন একটাই কাজ, বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলা। তার বক্তব্যে বোঝা যায় বিএনপি এত প্রবলভাবে আছে যে তাকে প্রতিদিন কথা বলতে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অ্যাগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) উদ্যোগে ‘কভিড-১৯-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কৃষি সেক্টারে কৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাস্তবতা হলো ওয়ান-ইলেভেনের সরকার আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল এবং তাদের সবাইকে তারা বৈধতা দিয়েছে। আজকে কোন মুখে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বলে ও জনগণের অধিকারের কথা বলে।
আওয়ামী লীগের প্রতি উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন না ফেয়ার ইলেকশন করুন। আপনারা কোথায় কে টিকে আছেন, কোথায় কে জনগণের দরদি হয়ে গেছেন দেখা যাবে। কেন আপনারা ২০১৮ সালে আগের রাতে সব নির্বাচন করে নিয়ে চলে গেলেন? কেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে কোনো দলই অংশগ্রহণ করল না, আপনারা ১৫৪ জনকে অগ্রিম নির্বাচিত ঘোষণা করে দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করলেন?
মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবস্থার শেষ হবে, শেষ হতে বাধ্য। বাংলাদেশের জনগণ কোনো দিনই পরাধীনতা মেনে তাদের অধিকারকে হারিয়ে তারা নিশ্চুপ থাকেনি। হয়তো সময় লেগেছে কিন্তু সেই সময়ের অবসান হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে ভারত স্বীকার করছে যে তাদের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। অন্যদিকে আমার সরকার মিথ্যা কথা বলছে। কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে তারা জনগণের সঙ্গে মিথ্যা কথা বলে। এই সরকার সম্পূর্ণভাবে জনবিচ্ছিন্ন, সে কারণেই জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্বশীলতা নেই।
অ্যাবের আহ্বায়ক রাশিদুল হাসান হারুনের সভাপতিত্বে ও কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল, অধ্যাপক জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক মো. আব্দুল করিম, অধ্যাপক শামসুল আলম ভূঁইয়া, অধ্যাপক শওকত আলী, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহকৃষিবিষয়ক সম্পাদক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক প্রমুখ।